ইসলামের প্রাথমিক যুগে রাসুল (সা.) প্রকাশ্যে দাওয়াতি কাজ করার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট ছিলেন না। তাই তিন বছর পর্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে দ্বিনের দাওয়াত দিয়েছেন। যাদের প্রতি ভালো ধারণা হতো, শুধু তাদের দাওয়াত দিতেন। একপর্যায়ে রাসুল (সা.) এই ভাগ্যবান সাহাবি আরকাম ইবনে আবুল আরকাম (রা.)-এর বাড়িটিকে দ্বিনি দাওয়াত ও নওমুসলিমদের কোরআন শিক্ষা ও তালিমের জন্য নির্বাচন করেন। সাফা পাহাড়ের কাছেই ছিল তাঁর বাড়িটি। বর্তমানে যেখানে সাফা পাহাড়ের মাসআ বা যেখান থেকে সাঈ করা শুরু করা হয়, সেখানেই তাঁর বাড়ি ছিল। এই বাড়িতে বহুসংখক সাহাবি ইসলাম গ্রহণ করেন। ওমর (রা.)ও এই বাড়িতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন মুসলমানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০ জনে। এরপর রাসুল (সা.) মহান আল্লাহর নির্দেশে গোপনীয়তা বর্জন করে প্রকাশ্যে দ্বিনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য আদিষ্ট হন। অপরদিকে ওমর (রা.)ও ইসলাম গ্রহণের পর প্রিয় নবীকে গোপনীয়তা বর্জন করে প্রকাশ্যে দাওয়াতি কাজ পরিচালনা করার পরামর্শ দেন। তখন রাসুল (সা.) আরকাম (রা.)-এর বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাহাবায়ে কেরামকে সঙ্গে করে সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করেন। এর পর থেকে প্রকাশ্যে দ্বিনি দাওয়াতে আত্মনিয়োগ করেন। (আল-ইসতিআব ১/১৩১-১৩২; সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া ৩৮-৩৯)
