মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ৮টি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং কূটনৈতিক মিশনগুলোতে ইরানের সামরিক হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (পেন্টাগন) ওয়াচডগ বা পরিদর্শক প্রধানের এক আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। চলতি বছরে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এই প্রথম পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো সমন্বিত ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান প্রকাশ করা হলো।
পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেল প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী ও তাদের অনুগত গোষ্ঠীগুলো। এতে শতাধিক ভবন ও অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পেন্টাগন রিপোর্টের মূল পয়েন্টগুলো:
কূটনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি ১৮ কোটি ডলার পার: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও ইউএসএআইডি (USAID)-এর সঙ্গে যৌথভাবে প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে জানানো হয়, কেবল কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতেই আনুমানিক ১৮৪ মিলিয়ন (১৮ কোটি ৪০ লাখ) ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দূতাবাসে ড্রোন হামলা: মার্চ মাসের শুরুতে সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন ট্রানজিট কম্পাউন্ড ও সিআইএ স্টেশনে ইরানি ড্রোনের সরাসরি আঘাতে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া দুবাইয়ের মার্কিন কনস্যুলেট ও কুয়েতের মার্কিন দূতাবাসেও হামলা চালিয়েছে ইরানের ড্রোন। কুয়েতের দূতাবাস সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়।
লজিস্টিকসে বড় ধাক্কা: বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর আঞ্চলিক সদর দফতরে ভয়াবহ হামলার ফলে সরবরাহে চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। কৌশলগত কারণে লজিস্টিক সেন্টার ভারত মহাসাগরের দিয়াগো গার্সিয়া দ্বীপে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে মার্কিন নৌবাহিনীর রসদ পৌঁছাতে অতিরিক্ত ১৪ থেকে ১৮ দিন সময় লাগছে।
সৈন্য ও কূটনীতিক প্রত্যাহার: পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রায় ৩,৫০০ কূটনৈতিক কর্মী ও তাদের পরিবারকে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরাক ও কুয়েত থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীর মেডিকেল ইভাকুয়েশন হেলিকপ্টার সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সে করে সড়কপথে আহতদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরাকেই মার্কিন বিভিন্ন স্থাপনায় ৬০০টিরও বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ঘাঁটি ও অবকাঠামোর সার্বিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক ও কূটনৈতিক উপস্থিতি দীর্ঘমেযাদে কমিয়ে আনবে কিনা, তা পর্যালোচনা করছেন পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
