Tuesday, September 15, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্নে ইসরায়েলি নীতি, দাবি বি’তসেলেমের

ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্নে ইসরায়েলি নীতি, দাবি বি’তসেলেমের

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব ও সমাজব্যবস্থা ভেঙে দিতে ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা, চলাচলে বিধিনিষেধ, অর্থনৈতিক চাপ ও ভূমি দখলকে ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বি’তসেলেম। সংগঠনটির মতে, এসব পদক্ষেপ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং ফিলিস্তিনি সমাজকে দুর্বল ও উচ্ছেদ করার একটি সমন্বিত প্রক্রিয়ার অংশ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বি’তসেলেম জানায়, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা, ফিলিস্তিনিদের চলাচলে বাধা, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন দুর্বল করা এবং ভূমি দখল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে টিকে থাকা ক্রমেই কঠিন করে তোলা হচ্ছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।

সংগঠনটির প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে সংগৃহীত ২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি সমাজের প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি, চলাচলের স্বাধীনতা ও সামাজিক জীবনকে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। বি’তসেলেম এ প্রক্রিয়াকে ‘অস্তিত্ব বিলোপ প্রকল্প’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বি’তসেলেমের মতে, এই প্রক্রিয়া পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে পরিচালিত হচ্ছে। এগুলো হলো সহিংসতা ও ভয়ভীতি সৃষ্টি, চলাচলে বিধিনিষেধ, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো দুর্বল করা এবং জাতিগত উচ্ছেদ ও ভূখণ্ড দখল। সংগঠনটির দাবি, এসব পদক্ষেপ পরস্পরকে শক্তিশালী করে ফিলিস্তিনিদের পশ্চিম তীরে সম্মিলিতভাবে বসবাসের সুযোগ সংকুচিত করছে।

সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে প্রায় ১ হাজার ৮৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিশু বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় উচ্ছেদের ঘটনাও বেড়েছে বলে বি’তসেলেম জানিয়েছে।

বি’তসেলেম বলছে, পশ্চিম তীরে চলমান পরিস্থিতিকে বিচ্ছিন্ন কিছু মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যাবে না। তাদের দাবি, সহিংসতা, বসতি সম্প্রসারণ, উচ্ছেদ ও চলাচলে বিধিনিষেধ মিলিয়ে ফিলিস্তিনিদের জন্য নিজ ভূমিতে বসবাস, কাজ ও টিকে থাকার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত করা হচ্ছে।

সংগঠনটির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরেও পশ্চিম তীরের মাসাফের ইয়াত্তা এলাকায় ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ধ্বংস ও সম্প্রদায় উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। ৮ সেপ্টেম্বর খিরবেত আল-ফাখিত ও খাল্লেত আল-দাবেহ এলাকায় কয়েকটি পরিবারের বাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে বলে বি’তসেলেম জানিয়েছে।

ইসরায়েলি এই মানবাধিকার সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখল, বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার সমালোচনা করে আসছে। নতুন প্রতিবেদনে সংগঠনটি এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে নয়, বরং ফিলিস্তিনি সমাজের অস্তিত্বের শর্তগুলো ভেঙে দেওয়ার একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

Sourceinsaf24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × three =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য