Sunday, September 13, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিককলকাতায় মুসলিম উপাধ্যক্ষকে পদত্যাগে বাধ্য করে গঙ্গাজল দিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করল হিন্দুত্ববাদীরা

কলকাতায় মুসলিম উপাধ্যক্ষকে পদত্যাগে বাধ্য করে গঙ্গাজল দিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করল হিন্দুত্ববাদীরা

ভারতের কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজের মুসলিম উপাধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদী তারান্নুমকে রাতভর ঘেরাওয়ের পর পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তারান্নুম কলেজ ছাড়ার পর তার কক্ষে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ও ধূপ জ্বালিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় ক্যাম্পাসে হিন্দুত্ববাদী ছাত্র সংগঠন এবিভিপির পতাকাও ওড়ানো হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার। পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম উপস্থিতির নিয়ম কার্যকর করাকে কেন্দ্র করে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ শুরু করে। বৃহস্পতিবার থেকে টানা প্রায় ২৩ ঘণ্টা তারান্নুমকে ঘেরাও করে রাখা হয়।

তারান্নুম জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় তাকে কক্ষে আটকে রাখা হয়। খাবার ও পানি দেওয়া হয়নি, বিদ্যুৎও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চাপ প্রয়োগ করে তার কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

পুলিশের উপস্থিতিতে কলেজ থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বলেন, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তিনি।

তারান্নুম কলেজ ছাড়ার পরই ক্যাম্পাসে উল্লাস শুরু করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর তার ব্যবহৃত কক্ষে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ও ধূপ জ্বালিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়।

এ সময় এলএলএমের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের কলেজ পাপমুক্ত হয়েছে, তাই ধূপ আর গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ করলাম।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দৃশ্যে একই সময় কলেজ ক্যাম্পাসে এবিভিপির পতাকাও ওড়াতে দেখা যায়। তারান্নুমের পদত্যাগের পর গঙ্গাজল দিয়ে কলেজ ধোয়া, ধূপ জ্বালানো এবং এবিভিপির পতাকা ওড়ানোর ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে গঙ্গাজল দিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ ধর্মীয় পরিচয় ও তথাকথিত পবিত্রতার ধারণার সঙ্গে যুক্ত প্রতীকী আচরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপাধ্যক্ষের বিদায়ের পর তার কক্ষকে ‘পাপমুক্ত’ ঘোষণা করে এ ধরনের শুদ্ধিকরণ চালানোর ঘটনা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের প্রশ্নকে সামনে এনেছে।

অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে, কলেজের উপস্থিতি হিসাব করার পদ্ধতিতে ত্রুটি ছিল এবং অনিয়মিত সময়ে ক্লাস নেওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে।

তারান্নুম এসব অভিযোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করেননি।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস ও এবিপি আনন্দ

Sourceinsaf24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

fourteen − 14 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য