চাইনিজ ছেলে এসে এই দেশের মুসলিম মেয়েদের বিয়ে করাটাকে মানুষ এখনো মজার চোখে দেখছে বলে আমার নিকট আশ্চর্য লাগছে। অথচ এরাই খুব সিরিয়াস হয়ে যায় যখন এই দেশের অন্য ধর্মের কোন ব্যক্তি কোন মুসলিম মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে কিংবা প্রেমের সম্পর্ক করে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায়।
এই দেশের উঠতি বয়সের বড় একটা অংশ আমাদের জ্ঞাতসারেই কে পপের ফ্যান হয়ে উঠে। কে পপের ফ্যান হওয়ার দ্বারা খুব ইজিলি মঙ্গোলিক চেহারার প্রতি এরা আসক্ত হয়ে যায় । আবার অন্যদিক থেকে চায়নায় চলছে চরম পর্যায়ের কন্যা খরা। চাইনিজরা দীর্ঘকালীন সময় ধরে এক সন্তান নীতি অবলম্বনের কারণে শুধুমাত্র ছেলে সন্তানকেই বাছাই করে নিয়েছে। মেয়ে ভ্রুনকে পৃথিবীতে আসার আগেই হত্যার সম্মখীন হতে হয়। যে কারণে বর্তমানে চাইনিজ পুরুষ এবং নারীর অনুপাতের মধ্যকার এক ব্যাপক ভারসাম্যহীন অবস্থা চলে আসে। গত কয়েক বছরে এই ভারসাম্য কমে আসলেও এখনও প্রায় সাড়ে তিন কোটি চাইনিজ পুরুষ নারী শূন্যতায় ভুগছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এরা চীনের বাহিরে থেকে নারী পাওয়ার সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এবং চীনে যে নারীরা অবশিষ্ট আছে এদেরকে বিয়ে করতে গেলেও প্রচুর পরিমাণ টাকার দরকার হয় যে কারণে চাইনিজ যুবকরা টিকটকের মত বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, কম্বোডিয়ার মত বিভিন্ন দেশের মেয়েদের সাথে সম্পর্ক করতে চাচ্ছে।
সমস্যা হল, চাইনিজরা পারিবারিকভাবেই নাস্তিক হয়। অর্থাৎ ব্যাপারটা এরকম না যে সে পারিবারিকভাবে কোন ধর্মে বিশ্বাসী ছিল হঠাৎ করে সে অন্য ধর্মে নিজের বিশ্বাস পরিবর্তন করে নিল। ব্যাপারটা মোটেও এরকম নয়। চাইনিজদের সাথে আদৌত কোন ধর্মের সম্পর্ক নেই। এরা সরাসরি নাস্তিক। তাই স্বাভাবিকভাবেই এদের শত বছরের যে কালচার গড়ে উঠেছে তা সুস্পষ্ট এক নাস্তিকীয় কালচার। এখানে অনেক মিথিক্যাল ক্রিয়েচার আছে কিন্ত তার কোনটাই তাদের নাস্তিকতাকে অতিক্রম করতে পারে নি । তাই তারা চাইলেই মুসলিমদের কালচারে নিজেদেরকে অ্যাডোপ্ট করতে পারবে না।
এছাড়া তাদের খাদ্য, পোষাক সব সংস্কৃতি আমাদের দেশের শুধুমাত্র ধর্মীয় কালচারই নয় বরং সমস্ত আঞ্চলিক সংস্কৃতিকেও অতিক্রম করে। এখন মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া কোন মেয়েকে চাইনিজ পুরুষের কাছে দিয়ে দেওয়াটা এক রকম নাস্তিকের কাছে দেওয়ার মতই। চাইনিজ পুরুষ হয়তবা তার নারী তৃষ্ণা মেটাবার জন্য সাময়িক সময়ের জন্য কালেমা পাঠ করে নিজেকে মুসলিম দাবি করবে কিন্ত এটা মনে রাখা দরকার চায়নাতে মুসলিম কালচার মোটেও কোন পপুলার কালচার না যে কোন যুবক মুসলিম না হয়েও এই কালচারের সাথে পরিচিত থাকবে। তাই মেয়েকে চাইনিজ পুরুষের হাতে দেওয়াটা মেয়েকে আজীবনের জন্য জাহান্নামে পাঠানোর এক রাস্তা খুলে দিতে পারে।
এছাড়াও বাস্তবিকপক্ষে একটা সিঙ্গেল কেইস নাই যেখানে এরকম বিয়ের সফলতা পাওয়া গিয়েছে । ডেইলি স্টারে এরকম একটা রিপোর্ট আছে যদিও সেই বাঙ্গালি নারী অমুসলিম ছিল কিন্ত তারপরেও সে চায়নাতে গিয়ে তার স্বামীর সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে নাই। পুরো একশ আশি ডিগ্রীর বিপরীত কালচার। আরেকটা প্রয়োজনীয় কথা, যে মেয়ে জেনে শুনে বুঝে একজন অমুসলিম চাইনিজের কাছে নিজের সতীত্ব তুলে দেওয়ার নিয়ত করে প্রেম করে, সেই মেয়ে আদৌ মুসলিম আছে কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন আসা উচিত। ঘরের ভিতরে থেকে মুসলিম পরিবারের মেয়েরা কিভাবে মুরতাদ হয়ে যাচ্ছে এই প্রশ্নটা আমাদের ঘরে ঘরে উঠা উচিত।
