Thursday, July 23, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeযুগ জিজ্ঞাসাট্রেন্সজেন্ডার আসলে কি সম্ভব?

ট্রেন্সজেন্ডার আসলে কি সম্ভব?

সৌদি আরবের আল লাজনাতুদ দায়িমায় ইউরোপে বসবাসকারী একজন যুবকের প্রশ্ন আসে। প্রশ্নটি উত্তর সহ আমি নিচে উল্লেখ করছি।

প্রশ্ন: আমার জন্য কি লিঙ্গ পরিবর্তনের অপারেশনের মাধ্যমে পুরুষ থেকে নারী হওয়া বৈধ হবে? আমি পুরুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি এবং এখনো বায়োলজিক্যালি আমি একজন পুরুষ। আমি পশ্চিমা সমাজে বড় হয়েছি। যেই সমাজের মূল্যবোধকে আমি ঘৃণা করি। আমি এর প্রতি পরিপূর্ণরূপে বিরক্ত। আনুমানিক ৪ বছর আগ থেকে আমি প্রতিদিন সালাতে আল্লাহর কাছেই কেবল দোয়া করে এসেছি। এখন আমি এই অবস্থায় পৌঁছেছি যে, আপনাদের মত আলেমদের কাছে এই ব্যপারে প্রশ্ন করা সম্ভব হচ্ছে। আশা করি আল্লাহ তায়ালা আপনাদের প্রজ্ঞা ও ইলমের মাধ্যমে এই প্রশ্নের সমাধান দিবেন।

আমার এই প্রশ্ন পশ্চিমা চেতনা থেকে তৈরি হয়েছে। যেই চেতনা আর অনুভূতি শৈশব থেকেই তারা আমার ভিতর বপণ করেছে। আমি একজন ছেলে হিসেবে জীবনযাপন করতে চাই না। আমি নিজেকে একজন মেয়ে মনি করি। আমার অনুভূতি বর্তমানে আরো পোক্ত হয়েছে। অথচ আমি প্রকৃতিগতভাবে একজন পুরুষ। একজন পুরুষের সকল ভূমিকা পূর্ণাঙ্গরূপেই আমি সম্পাদন করতে পারি।

কিন্তু আমি মানসিকভাবে মেয়েলি বৈশিষ্ট্য ধারণ করি। আমি যৌনম্পর্ক ও আবেগের জায়গা থেকে ছেলেদের প্রতি আকর্ষণ ও টান অনুভব করি। অথচ আমি এখনো পর্যন্ত কারো সাথে কোন প্রকার শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করিনি। আমি অনুভব করি, আমাকে একজন মেয়ে হওয়া উচিত। কিন্তু আমি আমার নারীত্বকে ব্যক্ত করতে পারি না। কারণ আমার শারিরীক গঠন পুরুষের। এজন্য আমি মনে করি, লিঙ্গ পরিবর্তনের অপারেশনই আমার বিদ্যমান অবস্থার নিরাময়ের জন্য সহযোগী হবে। তবে ইসলামী শরীয়ায় এই ধরণের প্রক্রিয়া বৈধ না হলে আমি এমনটি করব না। আর এজন্যই উত্তর জানার জন্য আপনাদের জিজ্ঞাসা করেছি।

আমি মনে করি, ইতিপূর্বে কেউ আপনাদের এই ধরণের প্রশ্ন করেনি। আমি প্রত্যাশা রাখি, বিষয়টি জটিল হলেও আপনারা আমাকে এর উত্তর জানাবেন এবং দিক নির্দেশনা প্রদান করবেন। আমি ছেলে হই কিংবা মেয়ে, সর্বাবস্থায় আমি একজন মুসলিম। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আমি দোয়া করি, তিনি যেন আমাকে চিরকাল মুসলিম হিসেবে হেফাজত রাখেন। আশা করি দ্রুতই আপনাদের প্রতিউত্তর পাব। দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা আপনাদের সকল নেক কাজের বিনিময় দান করবেন। এই আশা ব্যক্ত করেই আমি আমার বার্তার ইতি টানছি। আসসালামু আলাইকুম।

উত্তরঃ
প্রথমত:
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,
لِلّٰہِ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ ؕ یَہَبُ لِمَنۡ یَّشَآءُ اِنَاثًا وَّیَہَبُ لِمَنۡ یَّشَآءُ الذُّکُوۡرَ ۙ
اَوۡ یُزَوِّجُہُمۡ ذُکۡرَانًا وَّاِنَاثًا ۚ وَیَجۡعَلُ مَنۡ یَّشَآءُ عَقِیۡمًا ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌ قَدِیۡرٌ
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। যাকে চান কন্যা দেন এবং যাকে চান পুত্র দেন। অথবা পুত্র ও কন্যা উভয় মিলিয়ে দেন। আবার যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান। ( সুরা শুরা, আয়াত ৪৯-৫০) সুতরাং মুসলিমদের জন্য আবশ্যক হক, আল্লাহর সৃষ্টি ও ফায়সালার ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকা।

যদি আপনার অবস্থা আপনার বর্ণনা অনুযায়ী হয় যে, আপনার পুরুষত্ব সুনিশ্চিত ও সুস্পষ্ট। একজন পুরুষের সকল কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে আপনি সম্পাদন করতে পারেন। যদিও এখনো পর্যন্ত আপনি কারো সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হননি। এমতাবস্থায় আপনার জন্য জরুরী হল, নিজের পুরুষত্বকে হেফাজত করা, আল্লাহ আপনাকে যেই বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা দিয়েছেন সেই ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকা এবং পুরুষ হিসেবে সৃষ্টি করার দরুণ মহান আল্লাহ তায়ালা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা। দ্বীন ও মানবতার সেবায় একজন পুরুষ একজন নারী থেকেও বেশি সক্ষমতা রাখে। ( দায়িত্বের জায়গা থেকেও ) একজন পুরুষ উচ্চ আসনে। যেমন মহান আল্লাহ তায়ালার নিম্নোক্ত আয়াত থেকে বুঝা যায়,
اَلرِّجَالُ قَوّٰمُوۡنَ عَلَی النِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ اللّٰہُ بَعۡضَہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ وَّبِمَاۤ اَنۡفَقُوۡا مِنۡ اَمۡوَالِہِمۡ
পুরুষ নারীদের অভিভাবক, যেহেতু আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু পুরুষগণ নিজেদের অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে। ( সুরা নিসা, আয়াত ৩৪)
….

দ্বিতিয়ত:
আপনার পুরুষত্ব যখন সুস্পষ্ট ও সুপ্রমাণিত, তখন নারী হওয়ার জন্য লিঙ্গ পরিবর্তনের অপারেশন করা মূলত আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন ও আল্লাহ আপনার জন্য যা নির্বাচন করেছেন তার প্রতি অসন্তুষ্টি হিসেবে গণ্য হবে। আপনার অপারশন ও নারীতে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও কখনোই আপনার জন্য একজন নারী হওয়া সম্ভব নয়। পুরুষ ও নারী প্রত্যেকেরই সৃষ্টিগত সহজাত কিছু ব্যবস্থাপনা আছে। আল্লাহ ছাড়া সেগুলো তৈরি এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য প্রদান কারো পক্ষেই সম্ভব না।

কেবল পুরুষের যৌনাঙ্গ ও নারীর যৌনিপথের ছিদ্রই সবকিছু নয়। বরং শুক্রাশয় ও ইত্যাদি অঙ্গ থেকে গঠিত, পরস্পর সম্পৃক্ত ও সুবিন্যস্ত এক পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া একজন পুরুষের ভিতর চলমান আছে। আর প্রত্যেকটি অংশেরই আছে অনুভূতি ও নিঃসরণ ধর্মী বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও কর্ম। এমনিভাবে একজন নারীর ভিতরও আছে ডিম্বাশয় ও এর অনুগামী নানা গ্রন্থির সুবিন্যস্থ প্রক্রিয়া। আর এর প্রত্যেকটি অংশেরই আছে অনুভূতি ও নিঃসরণধর্মী বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও তৎপরতা। এগুলোর প্রত্যেকটির মাঝে আছে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা। নারীপুরুষের উক্ত ব্যবস্থাপনার কোন কিছু প্রদান করা, জন্ম দেয়া, পরিচালনা করা, রূপান্তর করা ও বহাল রাখার কোন প্রকার ক্ষমতা মানুষের হাতে নেই। বরং সকল কিছুই মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে, যিনি মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান, সর্বোচ্চ পরাক্রমশালী, সূক্ষ্মদর্শী চিরজ্ঞাত।

সুতরাং যেই অপারেশন আপনি করতে চাচ্ছেন, সেটি একটি অনর্থক বিষয়। এর মাঝে কোন প্রকার উপকারিতা নেই। বরং এই প্রক্রিয়া আপনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে না দিলেও আপনার জন্য বিপদ আছে। সর্বনিম্ন বিপদ হল, আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন আপনি তাও হারাবেন আর যা আপনি অর্জন করতে চেয়েছেন সেটাও অধরা থাকবে। আবার এই ব্যর্থ অপারেশনের মাধ্যমে আপনি যেই মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে চাচ্ছেন, সেটাও সঙ্গে থেকে যাবে।

তৃতীয়ত:
আর যদি আপনার পুরুষত্ব সুনিশ্চিত না হয়, হয়ত আপনি নিজ শরীরের বাহ্যিক আলামত দেখে নিজেকে পুরুষ ভাবছেন। অপরদিকে মানসিকভাবে নারীত্বের বৈশিষ্ট্য ধারণ করছেন। যৌন ও আবেগের দিক থেকে আপনি ছেলেদের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করছেন, তাহলে আপনি একটু ধৈর্য ধরুন। আপনি যেই ধরণের অপারেশনের কথা ভাবছেন, সেদিকে ধাবিত না হয়ে আপনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

যদি তারা পরীক্ষা- নীরিক্ষার পর নিশ্চিত করে যে, আপনি বাহ্যিক দেহে পুরুষ, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে (অভ্যন্তরীণভাবে) নারী, তবে আপনার বিষয়টি তাদের হাতে ছেড়ে দিন। তারা অপারেশনের মাধ্যমে আপনার নারীত্বকে পরিপূর্ণরূপে উন্মোচন করবে। আর এটা পুরুষ থেকে নারী হওয়া হিসেবে বিবেচিত হবে না। কারণ এর ক্ষমতা তো ডাক্তারদেরর হাতে নেই। এটি বরং আপনার প্রকৃত লিঙ্গকে প্রকাশ বা উন্মোচনকরণ এবং আপনার দেহ ও মনের গহীনে যেই অস্পষ্টতা ও জটিলতা ছিল সেটাকে দূরীকরণ।

আর যদি বিশেষজ্ঞদের কাছে ভিন্ন কিছু ধরা না পড়ে, তবে আপনি নিজ থেকে অপারেশন করতে গিয়ে নিজেকে বিপদে ফেলবেন না। বরং আল্লাহর ফায়সালার ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকুন। এই বিপদে আপনার রবের সন্তুষ্টির জন্য এবং অপারশনের ভয়াবহ পরিণতি থেকে বাঁচার জন্য ধৈর্য ধারণ করুন। আল্লাহকে ভয় করুন, তাঁর কাছে অনুনয়-বিনয় করুন। যেন তিনি আপনার প্রকৃত অবস্থা উন্মোচন করে দেন এবং আপনার মানসিক অস্থিরতা দূর করে দেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার কাছেই সকল কিছুর রাজত্ব, তিনিই সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
( আল লাজনাতুদ দায়িমা লিল বুহুসিল ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা, ২৫/৪৫)

(দারুল উলুম করাচি পাকিস্তানের দারুত তাসনিফ বিভাগ থেকে প্রকাশিত “তাগয়িরে জিনস কা মাসআলা” নামক গবেষণাধর্মী রিসালা থেকে অনুদিত।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য