Friday, July 24, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়ানবীজির দুনিয়াবিমুখ সাদামাটা জীবন

নবীজির দুনিয়াবিমুখ সাদামাটা জীবন

আমরা আরাম-আয়েশ ও ভোগ-বিলাসের জন্য কত রকমের উপায় অবলম্বন করি। দুই দিনের দুনিয়ার সামান্য ভোগ-সম্ভোগের জন্য কত চেষ্টা-প্রচেষ্টা আমাদের। অথচ প্রিয় নবী (সা.) ছিলেন দুজাহানের বাদশাহ। তিনি ছিলেন আল্লাহ তাআলার প্রিয় বন্ধু। ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল। চাইলে তিনি আরাম-আয়েশ, ভোগ-বিলাস আর স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন বেছে নিতে পারতেন। এ জন্য তাঁর অবারিত সুযোগ ছিল। তবে তিনি পরজীবনের সুখ-সমৃদ্ধি ইহজীবনের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন।

দুনিয়াতে বাদশাহি করেছেন ঠিকই, কিন্তু দুনিয়ার জীবনের জন্য কিছু করেননি। কখনো অনাহারে কখনো অর্ধাহারে থেকেছেন। অনেক সময় খাওয়ার মতো একটি খেজুরও থাকত না। এমন সাদামাটা জীবনের বাদশাহ যিনি, তাঁর আরাম-আয়েশের কথা ভাবা যায়! তাঁর দুনিয়াবিমুখ জীবনের একটি প্রামাণ্য চিত্র হজরত ওমর ফারুক (রা.) বর্ণনা করেছেন।

ওমর ফারুক (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে গেলাম। তিনি তখন খেজুরের পাতার চাটাইয়ের ওপর শোয়া ছিলেন। আমি বসে পড়লাম। তাঁর পরনে ছিল একটি লুঙ্গি। এ ছাড়া আর কোনো কাপড় নেই। পাঁজরে চাটাইয়ের দাগ বসে গেছে। ঘরের এক কোণে দেখলাম প্রায় এক সা গম, বাবলাগাছের কিছু পাতা এবং ঝুলন্ত একটি পানির মশক। এ অবস্থা দেখে আমার চোখে অশ্রু প্রবাহিত হলো।

নবী (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে খাত্তাবের ছেলে, তুমি কাঁদছ কেন?’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর নবী, আমি কেন কাঁদব না? এই চাটাই আপনার পাঁজরে দাগ কেটে দিয়েছে! আর এই হচ্ছে আপনার ধনভান্ডার! এতে যা আছে তা তো দেখতেই পাচ্ছি। অথচ পারস্য রাজা ও রোম সম্রাট বিরাট বিরাট উদ্যান ও ঝরনাসমৃদ্ধ অট্টালিকায় বিলাস-ব্যসনে জীবনযাপন করছে। আর আপনি হলেন আল্লাহর নবী ও তাঁর মনোনীত প্রিয় বান্দা। অথচ আপনার ধনভান্ডারের অবস্থা এই!’ তিনি বলেন, ‘হে খাত্তাবের ছেলে, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও—আমাদের জন্য রয়েছে পরকালের স্থায়ী সুখ-শান্তি এবং ওদের জন্য রয়েছে ইহকালের ভোগ-বিলাস?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪১৫৩)

লেখক: শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

11 + fourteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য