পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সময়ের পরিক্রমায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের সুগন্ধী কালোজিরা ধান। বেশি খরচ, কম লাভের কারণে এই ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন উপজেলার প্রান্তিক কৃষক। তারা বিকল্প হিসেবে আবাদ করেছেন বি-ধান ৪৩। কৃষি বিভাগের মাধ্যমে এই এই জাতের ধান আবাদে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা বা প্রদর্শনী প্লট প্রকল্প গ্রহণ করলে বিলুপ্তির হাত থেকে তা ফেরানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সূত্র জানায়, উপজেলায় কালোজিরা ধান স্থানীয় ভাষায় ঘুয়াধন হিসেবে বেশ পরিচিত। এক সময় উপজেলার কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল কালোজিরা ধান। সর্বত্র চাষও হতো। গ্রামীণ জীবনে এই ধানটি ছিল এক প্রকার অপরিহার্য অংশ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এই ধানের স্থান দখলে নিয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানগুলো। এই সুগন্ধী চিকন চাল দিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানে তৈরি হতো পিঠা-পুলি, পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি, ক্ষির, পায়েস, ফিরনি ও জর্দাসহ আরো সুস্বাদু মুখরোচক নানা ধরনের খাবার। কিন্তু এ সবই এখন স্মৃতি হতে বসেছে। এই ধান কাটার সময়কে ঘিরে গ্রামবাংলায় মেতে উঠত নবান্নের উৎসব। সেসব এখন অনেকটা অতীত। বীজের অভাব, সার, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানান কারণে হারিয়ে যাচ্ছে এ সুগন্ধী ধানের চাষাবাদ।
কলাপাড়া কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভায় ৩৫ হাজার ৫০০ কৃষক পরিবার রয়েছে। এ বছর ৩৩ হাজার ৭২৮ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করেছেন কৃষকরা।
ধুলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিন খাঁ জানান, এক সময় প্রত্যেক চাষিই কম বেশি এই ধান চাষ করত। তিনি বলেন, আজ থেকে ২০ বছর আগে ও অনেক কৃষক পরিবার কালোজিরা ধান চাষ করত। এখন হাতেগোনা কিছু কৃষক পরিবার নিজেদের খাবার জন্য কিছু জমিতে কালোজিরা ধান চাষ করেন। আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এই ধানের ফলন অন্য ধানের চেয়ে অনেক কম। যে জমিতে আমন চাষ করে ৫ টন ধান পাওয়া যায় সে পরিমাণ জমিতে কালোজিরা ৩ টনও পাওয়া যায় না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ বলেন, কালোজিরা ধান তুলনামূলক ফলন কম হওয়া কৃষকরা এই ধান আবাদে দিনে দিনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এখন অনেকে বি-ধান ৩৪ নামক ধানটি চাষাবাদ করছে। ওই ধানটি কালোজিরা ধানের মতো বিকল্প বেশি হয়।
