Wednesday, November 4, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবররোজকার তাজা খবররাফায় হামলা নিয়ে বাইডেন-নেতানিয়াহু ফোনালাপ

রাফায় হামলা নিয়ে বাইডেন-নেতানিয়াহু ফোনালাপ

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজার রাফায় অভিযান চালানোর ব্যাপারে বাইডেন প্রশাসনের সাথে আলোচনার জন্য তার কর্মকর্তাদের একটি দলকে ওয়াশিংটন পাঠাতে সোমবার সম্মত হয়েছেন। ওয়াইট হাউস জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালিভান বলেন, উভয় পক্ষ ‘নিজের দৃষ্টিভঙ্গি অন্য পক্ষের কাছে পরিষ্কার’ করে দিতে চাইছে।

সোমবার বাইডেন আর নেতানিয়াহু এক মাসেরও বেশি সময় পর কথা বলার পর রাফা নিয়ে আলোচনা করার ব্যাপারে সম্মতি আসে। ওয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় খাদ্য সঙ্কট এবং যুদ্ধের সময় ইসরাইলের কার্যক্রম নিয়ে দুই মিত্র দেশের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে।

সালিভান বলছেন, আগামী দিনগুলোতে আলোচনা হবে, এবং সেখানে সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা এবং মানবিক সাহায্য বিশেষজ্ঞরা জড়িত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াইট হাউস গাজার দক্ষিণে অবস্থিত রাফায় সামরিক অভিযান নিয়ে নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা সম্পর্কে সন্দিহান ছিল। গত ৭ অক্টোবর হামাসের মারাত্মক হামলার পর তাদের নির্মূল করতে ইসরাইলি আক্রমণের মুখে ১৫ লাখ ফিলিস্তিনি রাফায় আশ্রয় নিয়েছে।

সালিভান বলেন, তাদের টেলিফোন আলাপের সময় বাইডেন আবার নেতানিয়াহুকে রাফা অভিযান থেকে বিরত থাকার আহবান জানান। তিনি বলেন, আসন্ন আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ‘একটি বিকল্প পথের প্রস্তাব দেবেন, যাতে রাফায় মূল হামাস নেতাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে এবং কোনো ব্যাপক স্থল অভিযান ছাড়া মিসরের সাথে গাজার সীমান্ত নিরাপদ করা হবে।’

সালিভান বলেন, ‘রাফা অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তোলা আর হামাসকে পরাস্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা একই জিনিস– এই ভ্রান্ত ধারণাকে প্রেসিডেন্ট আগে প্রত্যাখ্যান করেছেন, আজকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এটা একেবারেই বাজে কথা। আমাদের অবস্থান হচ্ছে, হামাসকে রাফায় বা অন্য কোথাও নিরাপদ আশ্রয় দেয়া যাবে না, কিন্তু সেখানে বড় মাপের স্থল অভিযান চালানো ভুল হবে। এর ফলে আরো অনেক নিরীহ মানুষ মারা যাবে, মানবিক পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে, গাজায় নৈরাজ্য আরো প্রকট হবে এবং বিশ্ব দরবারে ইসরাইল আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পরবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতা চাক শুমার গাজায় যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা এবং ইসরাইলে নতুন নির্বাচনের আহবান জানানোর পর ওয়াশিংটনে বিরোধী রিপাবলিকান নেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

রিপাবলিকানরা শুমারের সমালোচনা করেন এই বলেন যে তিনি একটি ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করার ব্যাপারে অলিখিত নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। এর পরই বাইডেন এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে কথাবার্তা হয়।

বাইডেন শুমারের আহবান সমর্থন করেননি, কিন্তু বলেছেন যে তিনি ‘ভালো একটি বক্তৃতা’ দিয়েছেন, যেখানে অনেক আমেরিকানের উদ্বেগের প্রতিফলন ছিল। সালিভান জানান, নতুন নির্বাচনের জন্য শুমারের আহবান নিয়ে নেতানিয়াহু উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বাইডেন প্রশাসন হুঁশিয়ার করে দিয়েছে যে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তার ব্যাপারে ইসরাইল যদি কোনো গ্রহণযোগ্য পরিকল্পনা না দেয়, তাহলে তারা রাফায় কোনো অভিযান সমর্থন করবেন না। ওয়াইট হাউস কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরাইল এখনো সেরকম কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি।

‘দুর্ভিক্ষ আসন্ন’

বাইডেনের সাথে আলাপ শেষে নেতানিয়াহুর বিবৃতিতে এই চাপা উত্তেজনার কোনো উল্লেখ ছিল না।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ করি, যার মধ্যে ছিল যুদ্ধের সকল লক্ষ্য অর্জনে ইসরাইলের সংকল্প : হামাসকে নির্মূল, আমাদের সকল পণবন্দীকে মুক্ত করা এবং গাজা যাতে আর কখনো ইসরাইলের প্রতি হুমকি না হতে পারে, তা নিশ্চিত করা। একই সাথে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা সরবরাহ করা, যা এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে সাহায্য করবে।’

বাইডেন-নেতানিয়াহু সংলাপ এমন সময় হলো, যখন একটি নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে যে উত্তর গাজায় ‘দুর্ভিক্ষ আসন্ন’, যেখানে ৭০ শতাংশ মানুষ মারাত্মক অনাহারে আছে, এবং যুদ্ধের আরো সম্প্রসার গাজার অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অনাহারের মুখে ঠেলে দেবে।

গত বছর ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরাইলে হামলা চালালে পাঁচ মাস-ব্যাপী এই যুদ্ধ শুরু হয়। হামাস প্রায় ১,২০০ জনকে হত্যা– যাদের বেশির ভাগ বেসামরিক- এবং ২৫০ জনকে বন্দী করে নিয়ে যায়।

জবাবে ইসরাইল সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এবং ধ্বংসাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ইসরাইলি আক্রমণে ৩১,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু। গাজার ২৩ লাখ জনগোষ্ঠীর ৮০ শতাংশ তাদের বসত-বাড়ি থেকে পালিয়েছে।
সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 + eighteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য