১ অক্টোবর ২০২৬ আন্তর্জাতিক জার্নাল Torture-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংঘটিত গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
“The Shapla Chattar atrocity (2013) in Bangladesh: A case of state-perpetrated human rights violations” শীর্ষক গবেষণাপত্রটির DOI হলো 10.7146/torture.v36i2.157928। গবেষণাটি লিখেছেন মোহাম্মদ সরওয়ার হোসাইন, মুনায়েম খান, সাদীদ হোসাইন এবং এসএম ইয়াসির আরাফাত।
গবেষণাপত্রে ২০১৩ সালের ৫ থেকে ৬ মে রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পরিচালিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে, ওই ঘটনায় ৯৩ জন থেকে শুরু করে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হতে পারেন।
গবেষণাপত্র অনুযায়ী, ওই অভিযানে প্রায় ৭,৫০০ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি রাউন্ড জীবন্ত গুলি ব্যবহার করা হয়।
গবেষণায় বিশ্লেষণ করা ৬১টি নিশ্চিত মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নিহত ব্যক্তি মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট ছিলেন না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতদের একজন ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রেহান আহসান। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, রেহানের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না এবং তিনি হেফাজতে ইসলামের সদস্যও ছিলেন না। ইসলাম নিয়ে আপত্তিকর মনে করা কিছু কনটেন্টের বিষয়ে ব্যক্তিগত উদ্বেগ থেকে তিনি ওই শান্তিপূর্ণ সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন বলে গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষকরা উপসংহারে বলেছেন, ঘটনাটি ছিল ব্যাপক, পরিকল্পিত ও বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত; তাদের মতে, এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের আইনি মানদণ্ড পূরণ করে।
গবেষকরা ঘটনার বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ জন্য সংস্কার করা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তদন্ত ও জবাবদিহির প্রক্রিয়া পরিচালনার সুপারিশ করেছেন তারা।
© ফ্রাইডে পোস্টের বাংলা অনুবাদ
