[শরয়ী বিধান অনুযায়ী শাসকদের প্রশংসার ব্যাপারটি বাকিদের থেকে আলাদা নয়। কিন্তু এক্ষেত্রে এমন বাড়াবাড়ি চলে, যার অনিষ্ট খুবই ব্যাপক। এ সম্পর্কে ২০১৬ সালে ইযযুদ্দীন বিন সালিম নামের লিবিয়ান তালিবুল ইলমের একটি তথ্যবহুল নিবন্ধ ‘তাসফিয়াতারবিয়া ডট অর্গে’ প্রকাশিত হয়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিবন্ধটির গুরুত্ব বিবেচনায় আমরা মুসলিম বাঙালি পাঠকবর্গের জন্য তা বঙ্গীকরণ করে পেশ করছি। – অনুবাদক]
·
❝ রহিম রহমান আল্লাহর নামে শুরু করছি। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ নাবী ও রসুল এবং আমাদের নাবী মুহাম্মদের ওপর; আরো বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও সমস্ত সঙ্গী-সাথীর ওপর। অতঃপর:
কিছু মানুষ শাসকদের জন্য দোয়া এবং তাদের প্রশংসা ও গুণকীর্তনকে মিলিয়ে ফেলছেন। ইমাম ইবনু রজব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, “অনেকেই প্রশংসা পাবার হকদার নয়, এমন ব্যক্তির প্রশংসা করেন।” [শারহু হাদিস লাব্বাইক, পৃষ্ঠা: ৪৭] জালেমদের প্রসংশা করা—হোক তারা শাসক কিংবা জনসাধারণ—জুলুম; এটা কোনোভাবেই সালাফিয়্যাতের বৈশিষ্ট্য নয়। তাহলে তার ব্যাপারটি কেমন হতে পারে, যে প্রশংসায় আরও পঙ্কিলতা যুক্ত করে এবং পরিণত হয় মিথ্যা প্রশংসাকারীতে?! নাবী ﷺ বলেছেন, “একজন বান্দা কখনও আল্লাহর অসন্তুষ্টির কথা বলে, যার পরিণতির ব্যাপারে সে ভ্রুক্ষেপ করে না, অথচ সে কথার কারণে সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।” [সহিহ বুখারি, হা/৬৪৭৮]
শাসকবর্গ সৎ হোক কিংবা অসৎ, তাদের জন্য কল্যাণের দোয়া করা শরয়ী দিক থেকে ওয়াজিব। এটা নববী সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। আওফ বিন মালিক থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন, “তোমাদের ঐ সমস্ত আমির সর্বোত্তম, যাদেরকে তোমরা ভালোবাসো এবং তারাও তোমাদেরকে ভালোবাসে, তারা তোমাদের জন্য দোয়া করে এবং তোমরাও তাদের জন্য দোয়া কর।” [সহিহ মুসলিম, হা/৪৬৯৮]
·
ইমাম ইবনু উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “তারা তোমাদের জন্য দোয়া করে এবং তোমরাও তাদের জন্য দোয়া কর। (এখানে সলাত শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে) যার অর্থ, দোয়া করা। অর্থাৎ, তোমরা তাদের জন্য দোয়া কর, তারাও তোমাদের জন্য দোয়া করে।” [শারহু রিয়াদুস সালিহিন, ৩/৬৪৭]
শাসকদের জন্য কৃত দোয়া তাদেরকে নসিহাহ করার অন্তর্ভুক্ত। নাবী ﷺ বলেছেন, ‘সদুপদেশ দেয়াই দ্বীন।’ আমরা বললাম, ‘কার জন্য?’ তিনি বললেন, “আল্লাহ ও তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিম শাসক এবং মুসলিম জনগণের জন্য।” [মুসলিম, হা/১০০]
ইমাম ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “মুসলিম শাসকদের নসিহত করা হবে তাদের জন্য দোয়া করে, ভালোকাজে তাদের কথা শুনে এবং মেনে; সেই সাথে ভালোকাজ করতে ও মন্দকাজ ত্যাগ করতে তাদের সাহায্য করে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করে।” [মাজমূউ ফাতাওয়া, ২৫/৮৭]
·
শাসকের জন্য কল্যাণের দোয়া করা—হোক সে সৎ কিংবা অসৎ—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। এটা ছিল আমাদের ন্যায়নিষ্ঠ সালাফদের নিকট সুসাব্যস্ত নীতি। ইমাম ফুদাইল বিন ইয়াদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, “যদি আমার এমন একটি দোয়া থাকত, যা কবুল করা হবে, তাহলে আমি তা শাসকের জন্যই করতাম।” [হিলইয়াতুল আলওলিয়া, ৮/৯১]
এ কথার অর্থগত উদ্দেশ্য ‘শারহুস সুন্নাহ’য় ইমাম বারবাহারি (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন, “যদি দোয়াটি আমি আমার নিজের জন্য করি, তাহলে এটা আমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, কিন্তু আমি যদি সেটা শাসকের জন্য করি তাহলে, সে সৎ হয়ে যাবে, তার সাথে সাথে জনগণ এবং নগর-রাষ্ট্রও পরিশুদ্ধ হবে।” [শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারি, পৃষ্ঠা: ১১৪]
এজন্য ইমাম আহমদ বিন হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন, “আমি শাসকের জন্য দিবানিশি দোয়া করি, যাতে সে পরিশোধিত হয় এবং তৌফিক ও সাহায্য-সহযোগিতা পায়। আমি মনে করি এটা আমার জন্য অত্যাবশ্যক।” [সুন্নাহ লিল খাল্লাল, পৃষ্ঠা: ১৪]
·
হীন উদ্দেশ্যে শাসকের মিথ্যা প্রসংশা করা শরিয়তবহির্ভূত কাজ। এই তো ইমাম আহমদ বিন হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ), যিনি কিনা তিনজন (জালিম) শাসক—মামুন, মুতাসিম এবং ওয়াসিকের সময়কাল অতিবাহিত করেছেন। সে শাসকরা মানুষদেরকে দ্বীনের ব্যাপারে ফেতনায় ফেলেছিল, বিদাতের আবির্ভাব ঘটিয়েছিল, মানুষরা খলকে কুরানের বিদাতে কঠিন পরিক্ষার সম্মুখীন হয়েছিল। সেসময় তিনি এবং অন্যান্য উলামায়ে কেরাম (শাসকের ব্যাপারে) ধৈর্যধারণ এবং (যাবতীয় বৈধক্ষেত্রে তার কথা) শোনা ও মানার উপদেশ দিয়েছিলেন। অথচ তাঁদের অনেকেই ভোগ করেছিলেন শাস্তি। তথাপি আমরা কখনো শুনিনি, ইমাম আহমাদ ঐ সমস্ত শাসকের প্রশংসা করেছেন।
এমনকি আমরা দেখতে পাই, বেশ কিছু সাহাবী নিপীড়ক বাদশাহ হাজ্জাজ কর্তৃক শাসিত হয়েছেন। অথচ আমরা দেখি না, তাঁরা তার প্রশংসা করেছেন।
ইমাম নাবাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “খুৎবায় কিছু কথা বলা অপছন্দনীয়।… অতঃপর তিনি সেখানে উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে একটি—শাসকদের জন্য দোয়া করতে গিয়ে তাদের প্রশংসায় যথেচ্ছাচার করা এবং তাতে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া। যেমন বলা হয়, তিনি হলেন জ্ঞানবান ও ন্যায়পরায়ণ সরকার।” [আল-মাজমূ‘, ৪/৫২৯]
আল্লামাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবু বুতাইন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “(তবে সেরূপ নয়, যেভাবে) কিছু খুৎবায় মিথ্যাভাবে প্রশংসা ও গুণকীর্তন করা হয়। অথচ শাসকের জন্য দোয়া করা হবে, কিন্তু তার প্রশংসা করা হবে না; বিশেষত, যা তার মধ্যে নেই। সুতরাং ঐ সমস্ত খতিব, যারা তাদের প্রশংসা করে, তারাই দ্বীনকে ধ্বংস করছে। তাদের প্রশংসাকারীরা ভুল করছে। আজকের দিনে এমন কোনো শাসক নেই, যে প্রশংসার হকদার, অথবা যার গুণকীর্তন করা যায়। বরং তাদের জন্য তৌফিক ও হিদায়াতের দোয়া করতে হবে।” [দুরারুস সানিয়্যাহ, ৫/৪১]
·
আল্লামাহ সালিহ আল-ফাওযানকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, “জনগণের সামনে শাসকের প্রশংসা করা অথবা তাতে মাত্রাতিরিক্ততা করা কি জায়েজ, না (শাসকদের ব্যাপারে) মানুষদের শুধু ধৈর্যধারণ, আনুগত্য ও বিদ্রোহ না করার আদেশ দেওয়াই যথেষ্ট?”
উত্তর: “তার উচিত চুপ থাকা। যদি সে মানুষের কাছে বর্ণনা করতেই চায়, তাহলে সে বলবে, ইসলামের হুকুম হলো, মুসলিম শাসকদের আনুগত্য করা এবং তাদের কথা শোনা ও মানা; আল্লাহ ও তাঁর রসুল ﷺ এ কাজের আদেশ দিয়েছেন। আর তাদের কৃত ভুলে সবর ধারণ করতে হবে, যে ভুল কাফের হওয়ার সীমানায় পৌঁছে না।” [শাইখের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া; লিংক: www.alfawzan(ডট)af(ডট)org(ডট)sa/node/14254]
আল্লামাহ সালিহ আলুশ শায়েখ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন, “(শাসকদের জন্য) দোয়া করা এক জিনিস, আর প্রশংসা করা আরেক জিনিস। প্রশংসা করা না-জায়েজ কেননা তাতে দুনিয়াবি উদ্দেশ্য নিহিত থাকে। আর দোয়ার অর্থ দ্বীন, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা। দোয়ার বিষয়টি শারয়ী। আর প্রশংসার ক্ষেত্রে প্রশংসাকারীর বিভিন্ন উদ্দেশ্য থাকে। এজন্য উলামাগণ শাসকদের জন্য দোয়া করেন, কিন্তু তাদের প্রশংসা করেন না। কখনো কখনো তাদের নির্দিষ্ট কিছু প্রশংসা করেছেন, কোনো কাজের উপকার জাহির করার জন্য, যে কাজ শাসক করেছে। কিন্তু এটা ব্যতিক্রম এবং এটা নির্ধারিত মূলনীতি নয়। তাদের প্রশংসা করেছেন, তাদেরকে ভালো কাজে উৎসাহপ্রদানের জন্য। আসলে প্রশংসা সালাফদের কর্ম ছিল না, বরং তাদের কর্ম ছিল দুয়া। কারণ দোয়ার মাধ্যমে আশা করা যায়, তার দ্বীন শুদ্ধ হবে। আর শাসকের দ্বীনে যখন পরিশুদ্ধতা আসবে, তখন তার মাধ্যমে আরও অনেক কিছুরই পরিবর্তন হবে।” [ওকাফাতুন মাআ কালিমাতিন লি ইবনি মাসউদ; লিংক: www.youtube.com/watch?v=Wx6-pns4y1I]
·
এ থেকে বোঝা গেল, শাসকদের মিথ্যা প্রশংসা করা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত নয়। বিষয়টির নিকৃষ্টতা আরও বৃদ্ধি পায়, যখন শাসক জালেম হয়। নিকৃষ্টতার স্তর বৃদ্ধি পায়, যখন তা তার সামনে করা হয়। বিশেষত যার অবস্থা ও রীতি এমন। হাম্মাম ইবনু হারিস কর্তৃক বর্ণিত, এক ব্যক্তি উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর সামনেই তাঁর প্রশংসা শুরু করলে মিক্বদাদ হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে তার মুখে কাঁকর ছিটাতে শুরু করলেন। তখন উসমান তাঁকে বললেন, ‘ব্যাপার তোমারটা কী?’ তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “তোমরা [মুখোমুখি] প্রশংসাকারীদের দেখলে তাদের মুখে ধুলো ছিটিয়ে দিয়ো।” [সহিহ মুসলিম, হা/৩০০০]
ইমাম ইবনু উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “প্রশংসাকারীর কাছ থেকে একবার দুইবার প্রশংসা শোনা যাবে। কিন্তু অধিক প্রশংসাকারী, যখনই মানুষের কাছে বসে—সে বড়ো হোক, শাসক হোক, বিচারক হোক, আলেম হোক, কিংবা অন্য কেউ—তখনই সে প্রশংসা করতে শুরু করে।” [শারহু রিয়াদিস সালিহিন, ৬/৫৬৫]
·
সতর্কীকরণ: কিছু আলেম প্রশংসার ব্যাপারে ব্যাখ্যামূলক আলোচনা করেছেন। তাঁরা কিছু অবস্থায় এটাকে জায়েজ বলেছেন, আর কিছু অবস্থায় এটাকে নাকচ করেছেন।
ইমাম ইবনু উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, “কোনো ব্যক্তির উচিৎ তার ভাইয়ের মধ্যে যা আছে, তার জন্য প্রশংসা করা? এমতাবস্থায় তার অবস্থা কয়েকরকম হতে পারে।
প্রথম অবস্থা: তার প্রশংসায় কল্যাণ রয়েছে এবং এতে ভালো আচার-আচরণের ব্যাপারে রয়েছে উদ্বুদ্ধকরণ ও উৎসাহপ্রদান; এ প্রশংসায় কোনো সমস্যা নেই। কেননা এতে তাদের জন্য রয়েছে অনুপ্রেরণা। যখন আপনি কোনো লোকের মধ্যে বদান্যতা, বীরত্ব, আত্মত্যাগ এবং পরোপকারিতা দেখবেন, আপনি বিষয়টি তার সামনে তাকে উল্লেখ করতে পারেন অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য; আর যাতে সে যা করছে তা চালিয়ে যেতে পারে। এটা ভালো। এটা ঐ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হবে—‘তোমরা পরস্পরে কল্যাণ ও আল্লাহভীতির কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করো।’ [সুরা মায়িদা-২]
দ্বিতীয় অবস্থা: আপনি তার প্রশংসা করছেন, যাতে তার মর্যাদা মানুষের কাছে প্রকাশ পায়, মানুষ তাকে সম্মান করে। যেমন নাবী ﷺ আবু বকর এবং উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাথে করেছেন। আবু বকরের ব্যাপারে নাবী ﷺ বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কে আজকে রোজাদার অবস্থায় সকাল করেছে? তিনি বললেন, আমি। তিনি বললেন, আজকে কে রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গিয়েছে? তিনি বললেন, আমি। তখন নাবী ﷺ বললেন, এগুলো একসাথে যার মধ্যে একত্রিত হবে সে জান্নাতে যাবে। এভাবে তিনি যখন বললেন, যে অহংবশত কাপড় ঝুলিয়ে পড়ে, আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না। আবু বকর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, অসতর্কাবস্থায় আমার নিম্নবসনের একদিক ঝুলে যায়। কিন্তু সতর্ক হলে বোধহয় এরূপ হবে না। নাবী ﷺ বললেন, যারা গর্বভরে এরূপ করে, আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত নন।
তিনি উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে বললেন, ‘তুমি যে রাস্তা দিয়ে চল, শয়তান ঐ রাস্তা দিয়ে না যেয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে যায়।’ অর্থাৎ, তুমি যে রাস্তা দিয়ে চল, শয়তান সেখান থেকে পালায়। সে আরেক রাস্তা দিয়ে চলে। এটা আবু বকর এবং উমারের মর্যাদার বয়ান, এতে কোনো সমস্যা নেই।
তৃতীয় অবস্থা: অন্যের প্রশংসা করা এবং তাতে বাড়াবাড়ি করা; তার এমন গুণ বর্ণনা করা, যার হকদার সে নয়। এটা হারাম, মিথ্যা ও ধোঁকা। যেমন শাসক, মন্ত্রী অথবা এরূপ কারও প্রশংসা করা এবং তাতে বাড়াবাড়ি করা। আর তার এমন গুণ বর্ণনা করা, যে ভালো গুণের হকদার সে নয়। এটা আপনার জন্য হারাম। আর এটা প্রশংসিত ব্যক্তির জন্যও ক্ষতিকর।
চতুর্থ অবস্থা: তার মধ্যে যা আছে তার প্রশংসা করা। প্রশংসিত ব্যক্তি নিজেকে নিয়ে ধোঁকাগ্রস্ত হওয়া এবং অহংকার ও অহমিকায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে এ কাজ হারাম, না-জায়েজ।” [শারহু রিয়াদিস সালিহিন, ৬/৫৬৩]
·
আরেকটি সতর্কীকরণ, যে আমার এই কথা বুঝেনি তাদের কেউ এখান থেকে বুঝতে পারে, এতে রয়েছে, শাসকদের বিরূদ্ধে বিদ্রোহ করার আহ্বান। এই অসুস্থ বুঝ থেকে আরও এগিয়ে বুঝবে, এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে, যেসব শাসক আল্লাহর হুকুম দিয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করে না, বা যাদের মধ্যে পাপাচার রয়েছে যা কুফুরির সীমানায় পৌঁছে না—এটা যেন তাদেরকে তাকফির করার একটি ধাপ। মুসলিমকে তাকফির করা খুবই ভয়ানক বিষয়। তাতে অনেক পদ স্খলিত হয়েছে এবং অনেক সমঝ দিশেহারা হয়েছে। এ জায়গায় উত্তম অবস্থান শুধু তারই হবে, ইলমে যার অবস্থান শক্ত এবং ফিকহে যার বন্ধন পাকাপোক্ত।
মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা সালাফিয়্যাহ নয়, যদিও সে জালেম, পাপী এবং বিদাতি হয়। তদ্রুপ জালেম শাসকের মিথ্যা প্রশংসা করে তার তোষামোদি করাও সালাফিয়্যাহ নয়। সালাফিয়্যাহ হলো বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মাঝামাঝি। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন, আর তিনিই উত্তম তৌফিকদাতা।❞ (অনুবাদ সমাপ্ত)
.
অতএব, উপরের আলোচনা থেকে বোঝা গেল, ‘উলামারা শাসকের প্রশংসা করতে নিষেধ করেন, বিশেষ করে মিথ্যা প্রশংসা। আর আমরা এটাও দেখলাম যে, শাইখ আব্দুল্লাহ আবু বুতাইন (রাহিমাহুল্লাহ) আজ থেকে কয়েক যুগ আগে বলে গেছেন, বর্তমানে কোন প্রশংসাযোগ্য শাসক নেই। তবে ‘উলামারা কখনো কখনো শাসকের নির্দিষ্ট ভালো কাজের প্রশংসা করতে পারেন তাকে ভালো কাজে উৎসাহিত করার জন্য। আল্লাহ আমাদেরকে ‘উলামাদের দেয়া এই সঠিক নির্দেশনা বোঝার ও মেনে চলার তাওফীক্ব দান করুন।
.
তথ্যসূত্র: www.tasfiatarbia(ডট)org/vb/showthread.php?t=19154।
.
অনুবাদক: ‘আব্দুর রাহমান মৃধা
সম্পাদক: মুহাম্মাদ ‘আবদুল্লাহ মৃধা
fb.com/SunniSalafiAthari
