Tuesday, August 25, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিক২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসায় গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করা প্রায় ২ লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বড় ভিসা বাতিলের ঘটনা হতে পারে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হাতে পাওয়া মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি ও দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা বি-১ ও বি-২ ভিসাধারীদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে সেই প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কাজ করবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, স্বল্পমেয়াদি ব্যবসা বা পর্যটনের উদ্দেশ্যে অ-অভিবাসী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর যারা আশ্রয়ের আবেদন করে দেশটিতে স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করছেন, তাদের শনাক্ত করে ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।

তবে প্রায় ২ লাখের সংখ্যা চূড়ান্ত নয়। পিগট বলেন, প্রক্রিয়াটি চলমান থাকায় ঠিক কতজনের ভিসা বাতিল হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। এপি জানিয়েছে, কোনো পরিবর্তন বা আইনি বাধা না এলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভিসা বাতিলের কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

ভিসা বাতিল হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সবাইকে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে না। কর্মকর্তাদের মতে, যাদের আশ্রয়ের আবেদন বর্তমানে বিচারাধীন, তাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ব্যবসা বা পর্যটনের জন্য ব্যবহৃত ভিসার বৈধতা হারাবেন তাঁরা।

ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কড়াকড়ি আরোপ করেছে। এর মধ্যে ভিসা আবেদনকারীদের আরও বেশি তথ্য যাচাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের ভিসা সীমিত করার মতো পদক্ষেপ রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত ১৮ মাসে বিভিন্ন অপরাধ, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কারণ দেখিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। নতুন উদ্যোগটি সেই কঠোর নীতির আরও বড় পরিসরের প্রয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, কিছু বিদেশি ব্যবসা বা পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয় ব্যবস্থাকে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাঁদের মতে, স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভিসার শর্তের সঙ্গে এ ধরনের আবেদন সাংঘর্ষিক।

তবে এত বড় পরিসরে ভিসা বাতিলের উদ্যোগ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। আদালতের হস্তক্ষেপ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হলে পরিকল্পনার পরিধি ও বাস্তবায়নের সময়সূচি বদলে যেতে পারে।

বি-১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক সফরের জন্য এবং বি-২ ভিসা পর্যটন, পারিবারিক সফর বা চিকিৎসার মতো স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য দেওয়া হয়। নতুন উদ্যোগের ফলে এসব ভিসা ব্যবস্থায় আশ্রয়ের আবেদনকে কেন্দ্র করে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই শুরু হতে পারে। তথ্যসূত্র: এপি, রয়টার্স

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one + eleven =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য