ইরানের বিরুদ্ধে পূর্বে ঘোষিত সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। তেহরানের সামরিক সক্ষমতা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, সাইবার হামলা এবং অবৈধ তেল বাণিজ্য বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়, নতুন এই বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও একাধিক সংস্থাকে। বিশেষ করে যারা অস্ত্র সংগ্রহ ও মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার নির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত এবং যেসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের নিশানা করতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে আসছিল, তাদের এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ইরান সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সরঞ্জাম সরবরাহকারী একটি ক্রয়চক্রকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের মধ্যে দিয়ে ইরানের জ্বালানি পণ্য পরিবহন ও কেনাবেচায় যুক্ত এক বিশাল কার্গো জাহাজ সংস্থা ও মধ্যস্থতাকারী নেটওয়ার্কের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর আরো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় সাইবার হামলার দায়ে আটজন ইরানি নাগরিককে সম্প্রতি অভিযুক্ত করেছে এফবিআই। এই সাইবার হুমকির জবাবে মূল পাঁচজন শীর্ষ সাইবার-হামলাকারীর তথ্য প্রদানে এক কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কারের ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে, ইরানের সামরিক চক্রান্ত, সাইবার হামলা এবং অবৈধ তেল বাণিজ্য নস্যাৎ ও উন্মোচন করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
