Wednesday, June 10, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরসুগন্ধি সাবান উদ্ভাবনে মুসলমানদের অবদান

সুগন্ধি সাবান উদ্ভাবনে মুসলমানদের অবদান

‘সাবান’, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় সোপ (Soap)। এই শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ স্যাপো (Sapo) থেকে। এই স্যাপো শব্দটি প্রথম ব্যবহার করা হয় খ্রিস্টীয় ৭৭ সালে। আবার পর্তুগিজ ভাষায় স্যাব অথবা স্যাবোনেট নামে একটি শব্দ রয়েছে, যেটির অর্থ তেল বা চর্বি এবং অন্যান্য উপাদানের একটি মিশ্রণ; মূলত ছোট আকারের টুকরা, যা ধোয়াধুয়ির কাজে ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ মনে করে যে স্যাবো থেকে ব্রিটিশ ইংরেজিতে শব্দটি হয়ে যায় সোপ আর তা থেকে বাংলায় সাবান।

রোগজীবাণু থেকে বাঁচতে সাবান বা সাবানজাতীয় জিনিসের ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরনো। পরিচ্ছন্নতার জন্য সাবানজাতীয় বস্তু ব্যবহারের প্রথম প্রমাণ মেলে খ্রিস্টপূর্ব ২৮০০ সালে, প্রাচীন ব্যাবিলনে। শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই নয়, একসময় সাবান ব্যবহার করা হতো বিভিন্ন চর্মরোগের চিকিৎসায়ও, এ তথ্য জানা যায় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালে প্রকাশিত চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক প্রকাশনা ইবার্স প্যাপিরাস থেকে। সে সময় মিসরে পশুর চর্বি, সবজির তেল এবং অ্যালকাইন লবণ মিশিয়ে সাবানের মতো দ্রব্য প্রস্তুত করা হতো। মেসোপটেমিয়া, মিসর, মধ্যপ্রাচ্য সাবান তৈরি, ব্যবহার ও ব্যবসার ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। প্রাচীন চীনেও সাবান ব্যবহারের কথা জানা যায়।

তবে সর্বপ্রথম শক্ত সাবান তৈরি করেছিল আরবরা। পরবর্তীকালে তা ইউরোপে পরিচিত হয়। আর আমাদের এ অঞ্চলে সাবানের ইতিহাস ২০০ বছরেরও কম। ইতিহাসবিদদের মতে, সুগন্ধি সাবানের উদ্ভব হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ান সভ্যতায় সাবান তৈরি ও ব্যবহারের ব্যাপক প্রচলন ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রাচীন সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের অধিবাসীদের ছিল উত্কৃষ্ট মানের সাবান তৈরির দক্ষতা। (প্রথম আলো)

তৎকালে সিরিয়াসহ অনেক মুসলিম দেশে সাবান উৎপাদন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠে। রঙিন সুগন্ধি সাবান, ডাক্তারি সাবান তৈরি ও রপ্তানি হতো সিরিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে। নাবলুস, দামাস্কাস, আলেপ্পো ও সারমিন ছিল সাবান তৈরিতে বিখ্যাত। তারা সাবান তৈরিতে ব্যবহার করত জলপাইয়ের তেল ও আলকালি। কখনো কখনো এতে যোগ করা হতো ন্যাট্রন।

এমনই তথ্য পাওয়া যায়, মধ্যযুগের মুসলিম বিজ্ঞানী লেখক দাউদ আল আন্তাকির বর্ণনায়। এ ছাড়া আধুনিক সাবান তৈরির প্রস্তুত প্রণালী আবিষ্কার করেন মুসলিম বিজ্ঞানী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আল রাজি। (প্রযুক্তির জনকেরা, পৃষ্ঠা ১৫৫)

চিকিৎসাবিজ্ঞানে আল রাজির অবদান অবিস্মরণীয়। চিকিৎসাশাস্ত্রে মুসলমান বিজ্ঞানীদের অবদানের কথা বলতে গেলে প্রথমেই তাঁর কথা বলতে হয়। তবে তিনি শুধু চিকিৎসকই ছিলেন না, ছিলেন একাধারে গণিতবিদ, রসায়নবিদ ও দার্শনিক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

10 − 4 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য