عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَنْزَلَ اللَّهُ دَاء إِلا أنزل لَهُ دَوَاء» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা এমন কোন রোগ নাযিল করেননি, যার ঔষধ পয়দা করেননি। (বুখারী)[1]
[1] সহীহ : বুখারী ৫৬৭৮, নাসায়ী আল কুবরা ৬৮৬৫, ইবনু মাজাহ ৩৪৩৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬০৭৫, আহমাদ ৩৫৭৮, সহীহুল জামি‘ ৫৫৫৯, আল জামি‘উস্ সগীর ১০৪৯৬, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৪৫১।
ব্যাখ্যাঃ উপর্যুক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসীনে কিরাম বিভিন্ন রিওয়ায়াতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাসায়ী, ইবনু হিব্বান ও হাকিমসহ বিভিন্ন বর্ণনায় হাদীসে এসেছে যে, আল্লাহ তা‘আলা যেমন রোগ সৃষ্টি করেছেন, তেমনি এর শিফারও ব্যবস্থা করেছেন। মুসনাদে ইমাম আহমাদ, আল আদাবুল মুফরাদ ও সুনান চতুষ্টয়, তিরমিযী, ইবনু খুযায়মাহ্ সহ মুস্তাদরাকে হাকিম-এ আছে, তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর, আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি রোগেরই শিফা বা আরোগ্যের ব্যবস্থা করেছেন, তবে মৃত্যু ব্যতীত। সুনান আবূ দাঊদের বর্ণনায় আছে, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি রোগেরই শিফা বা আরোগ্যের ব্যবস্থা করেছেন। অতএব তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর, তবে হারাম পন্থায় নয়। চিকিৎসা গ্রহণ করার দায়িত্ব বান্দার, এটি ব্যবস্থা অবলম্বনের মতো, তবে আরোগ্য বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত।
আলোচ্য হাদীসে রোগ-ব্যাধির সমস্যায় চিকিৎসা গ্রহণের বৈধতার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে আরোগ্য সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশে সম্পন্ন হয়। এখানে চিকিৎসক ও পথ্যের কোন ক্ষমতা নেই, তবে এগুলো মাধ্যম ও অবলম্বন মাত্র। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিকিৎসা গ্রহণ আল্লাহর প্রতি নির্ভরতাকে নাকচ করে দেয় না। আমরা ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় যেমন খাবার ও পানি গ্রহণ করি, ঠিক রোগ-ব্যাধিতে চিকিৎসা গ্রহণের ব্যাপারটিও ঠিক অনুরূপ। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৬৭৮
