
২০২৪ সালের ৫ই অগস্টের পর ধর্মীয় কমিউনিটিতে যতগুলো প্ল্যাটফর্ম দাঁড়িয়েছে তাদের সকলেরই উচিত বিভিন্ন মাদ্রাসায় আমাদের সন্তানসম শিক্ষার্থীদের উপর সেখানকার ওস্তাদ কিংবা সিনিয়র ছাত্রদের দ্বারা হওয়া ন্যাক্কারজনক বিকৃত আচরণ নিয়ে কথা বলা। এটা অত্যন্ত জরুরী জনকল্যাণমূলক একটা বিষয়। এটাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। . অনেকেই মনে করছেন এটা নিয়ে কথা বলার দায়িত্ব কওমি এলমি মুরুব্বীদের কিংবা বয়স্ক আলেম ওলামাদের। কিন্ত বিষয়টা মোটেও এরকম নয়। অনেক সময় সব জিনিসের আবেদন সকলের কাছে একই রকমভাবে থাকে না। তাই মুরুব্বিরা যতক্ষণ পর্যন্ত এ নিয়ে বক্তব্য না দিচ্ছে কিংবা কোন উদ্যোগ না দিচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত ছোটরা স্পিকটি নট হয়ে থাকবে, তা হতে পারে না।
২০২৪ সালের ৫ই অগস্ট পরবর্তী যতগুলো ধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম দাড়িয়েছে তাদের কার্যক্রমে এটাই স্পষ্ট হয়ে উঠে যে তারা রাষ্ট্রীয় জুলুম নির্যাতন কিংবা সমাজের নির্দিষ্ট অংশের ইসলামোফোবিক আচরণ থেকে কওমকে রক্ষা করার জন্যই মূলত তারা তাদের কার্যক্রমকে পরিচালনা করার উদ্দেশ্য নিয়ে দাড়িয়েছে। এটা মূল উদ্দেশ্য হতে পারে। কিন্ত এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে এর পাশাপাশি জণকল্যানমূলক কাজ নিয়েও এগোতে হবে। আর আমাদের সন্তানদেরকে এসব বিকৃত রুচির সফেদ পোষাক পরা জানোয়ারদের থেকে রক্ষা করাটা মূল প্রায়োরিটিতে আসা উচিত। এটা কওমকে রক্ষা করার জন্য অন্যতম জনকল্যাণমূলক একটি পদক্ষেপ হতে পারে।
আলেমদের কাছে গিয়ে এই বিষয়টির গুরুত্ব বুঝানোর দায়িত্ব এই প্ল্যাটফর্মগুলোর নিতে হবে। তাদেরকে বুঝাতে হবে যে মাদ্রাসা কমিউনিটির ভিতরে হওয়া বিকৃত যৌনাচার প্রাক্টিসের যেসব খবর সেক্যুলার মিডিয়াতে প্রচারিত হয় তা ষড়যন্ত্রের স্তরে আর নেই বরং এটা বাস্তবতা। বরং অদূর নিকটে এটা নিয়ে কথা না বলাটাই উলটো দৃশ্যমান ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এবং এটার বিকৃত অবস্থা কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌছেছে সেটা বুঝানোর জন্য ডিসেন্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটি দেখানো যেতে পারে। যেখানে মাদ্রাসার ওস্তাদেরা নাবালেগ ছাত্র ছাত্রীদেরকে যৌন উপাদান হিসেবে দেখছে এবং সেটাকে তারা টিকটকের মত সোশ্যাল মিডিয়াতে ফলাও করে প্রচার করতেও কোন লজ্জাবোধ করছে না ! হাতে কুরান রেখে , জবানে কুরানের আয়াত নিয়মিত আওড়াচ্ছে অথচ এর সামনেই নাবালেগ ছোট ছোট ফুলের মত শিশুদেরকে যৌনতার চোখে দেখছে ! . পথভ্রষ্টতা কোন পর্যায়ে গেলে ছেলে শিশুদেরকে সুন্দরী নাম দিয়ে টিকটকে পোস্ট করে ! আমার দু পাশে দুজন সুন্দরী ! সমকামিতাকে কোন স্তরে নর্মালাইজ করে ফেলা হলে এরকম প্রকাশ্যে নিজেদের খাহেশাতকে প্রকাশ করার জন্য এরকম কোডনেম ব্যবহার করা হয় । এগুলো আলেমদের নিকটে গিয়ে বুঝান। এখানে কাউকে মাথা ভাবার দরকার নেই। যে অমুক মাথা থেকে কোন বক্তব্য না আসা পর্যন্ত আমরা কিছু বলব না। বরং এটা আমাদের দীন ,ধর্ম, সমাজ , আমাদের সন্তান , আমাদের প্রতিষ্ঠান সকলের সামগ্রিক কল্যাণের স্বার্থে এটা নিয়ে আমাদের কথা বলতে হবে। এটার জন্য মুরুব্বিদের দিকে তাকিয়ে থাকার মত বিড়ম্বনা পোহাবার সুযোগ এখানে নেই।
আলেমরা যদি এ বিষয়ে অতিশীঘ্রই কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন না করে তাহলে তাদের নসীহতের কার্যকারিতা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। দুঃখজনক বিষয় হবে সমাজের অনাচারের সিংহভাগই ঘটে যৌনাচার সংশ্লিষ্ট। নিজেদের প্রতিষ্ঠানে বিকৃত রুচির যৌনাচার প্রকাশ্য হওয়ার পরেও সেটা নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহন না করলে আর বাদবাকি সমাজে ঘটা অশ্লীল অনাচার নিয়ে কথা বলবার যোগ্যতা আমরা হারিয়ে ফেলব। কথা তো বলাই যাবে, কিন্ত তার কার্যকারিতা কমে আসবে। তাই এটা নিয়ে প্রতিটা প্ল্যাটফর্মকে দাড়াতে হবে। এবং এর সমাধানের জন্য যত প্রকার কার্যক্রম গ্রহন করা হয় তা যেন প্রকাশ্যে হয় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে অন্যথায় মাদ্রাসা নিয়ে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে তা দূর করা সম্ভব হবে না।
