মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স দেশটির শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিকাশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এর উন্নয়ন স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কিছু প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এমন কিছু এআই মডেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, যা লাখো মানুষের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক এবং মেটার প্রধান নির্বাহীদের প্রতি সোমবার লেখা এক চিঠিতে স্যান্ডার্স ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যদি প্রযুক্তিটি নিরাপদে পরিচালনা করার জন্য খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে তারা নতুন মডেলের কাজ বন্ধ বা বিলম্বিত করবে। তিনি লিখেছেন, “বিপর্যয় এড়ানোর জন্য এখনও খুব বেশি দেরি হয়ে যায়নি। এমন যন্ত্র তৈরি করা বন্ধ করুন যা মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।”
সোমবার প্রকাশিত পৃথক এক চিঠিতে মার্কিন সিনেটের একদল ডেমোক্র্যাট হাউস স্পিকার মাইক জনসনকে দেশটির বৃহত্তম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে অবিলম্বে শুনানি আয়োজনের আহ্বান জানান। রাজনীতিবিদরা ক্রমবর্ধমানভাবে এআই-এর ওপর মনোযোগ দিচ্ছেন, কারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে যে, এই শিল্পটি বিদ্যুতের খরচ বাড়াতে পারে, চাকরি কেড়ে নিতে পারে এবং অবসরকালীন সঞ্চয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে তথ্যকেন্দ্রগুলো নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
কিছু মার্কিন নাগরিক এসব কেন্দ্রকে উচ্চতর বিদ্যুৎ বিল ও বাড়তি দূষণের জন্যও দায়ী করছেন। স্যান্ডার্স লিখেছেন, “নির্বাহীরা যদি পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন, তাহলে আইনপ্রণেতারা হস্তক্ষেপ করবেন।” মার্কিন হাউস ডেমোক্র্যাটরাও এআই-র কঠোর নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। টেক্সাসের প্রতিনিধি গ্রেগ ক্যাসারের নেতৃত্বে আইনপ্রণেতারা লিখেছেন, “এআই-এর বিকাশের ফলে সৃষ্ট হুমকি মোকাবেলায় কংগ্রেস এখন পর্যন্ত পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এটি অবশ্যই বদলাতে হবে।”
যদিও সমালোচকেরা যুক্তি দিয়েছেন যে, এআই-এর উন্নয়ন স্থগিতের উদ্যোগ বিশ্বের অন্যত্র প্রযুক্তিটির অগ্রগতিতে সামান্যই প্রভাব ফেলবে এবং এর ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলো বিদেশি প্রতিযোগীদেও থেকে পিছিয়ে পড়তে পাওে, কিন্তু, প্রযুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র করা কয়েকটি ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর চিঠিগুলো পাঠানো হয়। এসব ঘটনার পর শিল্প খাতের কিছু ব্যক্তিত্ব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সুরক্ষাব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে, গত সপ্তাহে বিজ্ঞানীরা একটি গবেষণা প্রকাশ করেন, যেখানে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নতুন ধরনের ভাইরাস তৈরির প্রক্রিয়া নথিবদ্ধ করেছেন। এই উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে যে এই প্রযুক্তি বিপজ্জনক রোগজীবাণু তৈরির জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
গত মাসে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক জানায়, তাদেও বেশ কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে বিডজ্জনকভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাইবার হামলা চালিয়ে সেগুলোর মূল নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশে করেছিল। এতে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা এসব ব্যবস্থা নির্ভরযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না, সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্যান্ডার্স, নিউইয়র্কের প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের সাথে মিলে এই বছর এমন একটি বিল উত্থাপন করেছেন যা এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের উপর স্থগিতাদেশ আরোপ করবে। তিনি বলেন, “এই প্রস্তাবটি নির্মাণকাজ ততক্ষণ পর্যন্ত বন্ধ রাখবে যতক্ষণ না শক্তিশালী জাতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হয়।” আইনপ্রণেতাদের এই দাবি এমন এক সময়ে এসেছে যখন নীতিনির্ধারকরা প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা ও কঠোর তদারকির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন।
