Wednesday, September 9, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeনিবেদনফেইসবুক পেইজ থেকেএপ্সটিনের অ্যামেরিকা’র মুখে নারী অধিকার মানায় না!

এপ্সটিনের অ্যামেরিকা’র মুখে নারী অধিকার মানায় না!

আফগানিস্তানের নারীদের অধিকার নিয়ে আমেরিকার বক্তৃতা শুনলে মনে হয়, নারী-নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় অভিভাবক যেন ওয়াশিংটন। কিন্তু আয়নাটা যদি একবার নিজের দিকে ঘোরানো হয়? তখন দেখা যায়—যে রাষ্ট্র অন্য দেশের সমাজ, আইন ও সংস্কার নিয়ে নৈতিক উপদেশ দেয়, তার নিজের সামরিক বাহিনীর ভেতরেই যৌন সহিংসতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জবাবদিহির সংকট বহুদিনের বাস্তবতা।

সাম্প্রতিক সময়ে – মার্কিন কোস্ট গার্ডের সাবেক সদস্য কোরি সিওকার ঘটনা এই বাস্তবতারই একটি প্রতীক। The Invisible War তথ্যচিত্রে কোরি জানায় – দায়িত্ব পালনের সময় এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকেও যৌন নিপীড়ন করে। ধস্তাধস্তিতে তার চোয়াল ভেঙে যায়। চিকিৎসা-সহায়তা পেতেও তাকে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়, আর তার অভিযোগ অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি তখনও বাহিনীতেই কর্মরত ছিল। [১]

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের FY2025 Workplace Experiences Survey বলছে, আগের এক বছরে আনুমানিক ২০,৪৯২ জন সক্রিয়-দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ‘অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন সংস্পর্শের’ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। তাদের মধ্যে ৯,৮৬০ জন নারী এবং ১০,৬৩২ জন পুরুষ। ২০ হাজারের বেশি মানুষ যৌন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা কি সাফল্যের গল্প? আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভুক্তভোগীদের আনুমানিক মাত্র ৩৩ শতাংশ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। [২]

কেন ভুক্তভোগীরা চুপ থাকে? কারণ অভিযোগ করলে ক্যারিয়ার নষ্ট হতে পারে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রতিশোধ নিতে পারে, সহকর্মীরা দোষ চাপাতে পারে, আর তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে তার নিশ্চয়তা থাকে না। এখানে সমস্যাটি শুধু কিছু অপরাধীর চরিত্রে নয়; সমস্যা সেই কাঠামোতেও, যেখানে ক্ষমতাবান ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করাই ভুক্তভোগীর জন্য নতুন ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়।

CDC এর মতে, যৌন সহিংসতা কোনো একক কারণে তৈরি হয় না। মাদক ও অ্যালকোহল ব্যবহার, নারীবিদ্বেষ, অতিরিক্ত পুরুষতান্ত্রিক আচরণ, ক্ষমতা ও যৌন অধিকারবোধ, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে দুর্বল সামাজিক প্রতিক্রিয়া সব মিলেই ঝুঁকি বাড়ে। [৩]

গবেষণায় যৌন বস্তু হিসেবে মানুষকে দেখার মানসিকতা ও যৌন জবরদস্তির সম্পর্কও উঠে এসেছে। [৪]

আমেরিকার দ্বিচারিতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয় যখন তারা আফগানিস্তানকে নারী-অধিকার শেখায়। আফগান নারীদের নিরাপত্তার কথা বলা হয়, অথচ আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত যৌন সহিংসতার অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের প্রতি অবহেলা এবং আবু গরিবে বন্দীদের ওপর নির্যাতনের দায় নিয়ে আজও প্রশ্ন শেষ হয়নি। Human Rights Watch দেখিয়েছে, আবু গরিব কেলেঙ্কারিতে নিচের সারির কিছু সৈন্যকে বিচারের মুখোমুখি করা হলেও নীতিনির্ধারক ও উচ্চপর্যায়ের কমান্ড কাঠামোর জবাবদিহি ছিল অসম্পূর্ণ। [৫]

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনেও একই ধরনের সংকট দেখা গেছে। হাইতিতে শান্তিরক্ষীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এবং বিভিন্ন দেশে যৌন শোষণের নথি প্রকাশিত হয়েছে। [৬] PBS FRONTLINE জানায়, ১৫ বছরে শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে ১,৭০০-এর বেশি যৌন নির্যাতন ও শোষণের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছিল; কিন্তু কারাদণ্ডের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। জাতিসংঘ চাকরিচ্যুত করতে পারে, কিন্তু ফৌজদারি বিচার অনেকাংশে সৈন্য পাঠানো দেশের ওপর নির্ভর করে। [৭]

আমেরিকা যদি সত্যিই নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়, তবে নিজের ঘরের অপরাধ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসম্পূর্ণ জবাবদিহির হিসাব আগে দেবে না কেন? অন্য দেশের নারীর অধিকার নিয়ে বক্তৃতা দেওয়ার আগে নিজের ব্যারাক, কারাগার ও যুদ্ধক্ষেত্রের নিজের পাপের হিসাব নেয়া দরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 + 10 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য