Wednesday, September 9, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরহঠাৎ ছোবলের আশঙ্কা

হঠাৎ ছোবলের আশঙ্কা

যেকোনো মুহূর্তে ছোবল মারবে গণহত্যকারীরা। এটি সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষের কোনো প্রেডিকশন নয়। বরং এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম। নিষিদ্ধ আ’লীগ এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সময় গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীচক্র সম্পর্কে এমন সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন তিনি। অপরাধীদের বন্ধু ভাবার কোনো কারণ নেই-মর্মেও মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর। তার মতে, গুম নিয়ে যখনই তদন্ত শুরু হয়েছে, তখনই কিছু কিছু অপরাধীর তৎপরতাও বেড়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সারাদেশে ২৫১ জন গুম হওয়ার ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরাও একে একে জবানবন্দি দিচ্ছেন। এ কারণে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি আমরা খেয়াল করছি। তবে অপরাধীদের বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নেই। তারা যেকোনো সময় আমাদের ছোবল মারতে পারেন। এটি লক্ষ রেখেই আমরা কাজ করছি।

ট্রাইব্যুনালে যাদের বিরুদ্ধে এখন বিচার চলছে, তাদের বিষয়ে প্রশাসনের লক্ষ রাখার প্রয়োজন। গুম পরিবারের প্রত্যেক পরিবারের প্রতিও লক্ষ রাখার বিষয় রয়েছে। যেন তাদের নিরাপত্তা আরো বাড়ানো যায়।
তিনি বলেন, কিছু আসামির গতিবিধি, তৎপরতা সন্দেহজনক লেগেছে। তাদের কাছে কিছু গোপন তথ্য আছে যে, তারা (কিছু আসামি) যেকোনো স্যাবোটাজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারেন। এক সপ্তাহ ধরে ‘স্যাবোটাজ’ শব্দটা একটু বেশি আসছেÑ সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের ভেতরে-বাইরে প্রতিটি কর্মকা-, প্রতিটি জিনিস আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। সে কারণে কেউ যদি কোনো অপতৎপরতা দেখাতে চান, এটা তাদের জন্য আত্মঘাতী হবে।

মৃত্যুদ-প্রাপ্ত শেখ হাসিনা যাদের নিষ্ঠুরতার ওপর ভিত্তি করে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাদের বিচারের বর্তমান পর্যায়ে চিফ প্রসিকিউটরের এমন সতর্কবার্তা ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত বহন করছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই সতর্কবার্তা কোনো সাধারণ মানুষের নিছক কোনো আন্দাজ নয়। চিফ প্রসিকিউটরের সুনির্দিষ্ট, সুচিন্তিত, আনুষ্ঠানিক আশঙ্কা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান আইন কর্মকর্তার কাছে নিশ্চয়ই এমন কোনো আগাম তথ্য রয়েছে, যার ভিত্তিতে তিনি এ সতর্কবার্তা দিলেন। বিষয়টি শুধু উদ্বেগেরই নয়। জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য চূড়ান্ত হুমকি। বিচারের মুখোমুখি ‘হাসিনার কসাই’খ্যাত নিষ্ঠুর সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হাসি-তামাশা-বিদ্রƒপ, অতি আত্মবিশ্বাসী অভিব্যক্তি, কারাগারের ভেতর বাসা থেকে সরবরাহকৃত খাবার খাওয়া, কেক কেটে জন্মদিন উদযাপনÑ সব কিছুই যেন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে হাসিনার শাসনামলে বহু নিরীহ মানুষকে হত্যা, লাশ গুম। মাথায় রিভলবার ঠেকিয়ে লাশ বস্তাবন্দি করে শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা এবং দূরের বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেয়া, হত্যার পর শত শত লাশ রেললাইনে রেখে দেয়া-কত বীভৎস আর নির্মমতার বিবরণ উঠে আসছে হাসিনার গুম-খুন মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্যে। অন্যদিকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অনুতাপহীন, উদ্ধত এক জিয়াউল আহসান। ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর জিয়াউল আহসানকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কসাই রদোওয়ান কারাদজিচের সঙ্গে তুলনা করেঁিছলেন।

মাস দুয়েক আগে বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামও ট্রাইব্যুনালে দেয়া সাক্ষীর বরাত দিয়ে জিয়াউল আহসানের নৃশংতার তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ এবং ভারতজুড়ে ছিল জিয়াউল আহসান গংয়ের কিলিং মিশন। কথিত আসামিদের ধরে জিয়াউল আস্ত সিমেন্টের বস্তার ওপর শোয়াতেন। তার ওপর আসামিকে রেখে আরেকটি বস্তা দেয়া হতো। সেটির সঙ্গে আরেকজন আসামিকে দড়ি দিয়ে একসঙ্গে বেঁধে নিতেন। পরে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দিতেন। পেট কেটে নাড়িভুঁড়ি ফেলে দিতেন। যাতে লাশটি কোনো কারণে ভেসে না ওঠে। এ রকম শত শত হত্যাকা- ঘটনা এই জিয়া। এমন নিষ্ঠুর জিয়াউল আহসান বিচারের মুখোমুখি হয়ে দেখাচ্ছেন অনুতাপহীন মনোভাব। গুরুতর এবং স্পর্শকাতর মামলার অভিন্ন আসামি হওয়া সত্ত্বেও তার অভিব্যক্তিতে দেখা যায় না কোনো অনুতাপের প্রকাশ, যা ভুক্তভোগী পরিবার এবং সাধারণ মানুষের মনের ক্ষোভ আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জিয়াউলের মতো অপরাধীদের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মামলার সাক্ষী এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে ভয় পান।

এমন দাগী অপরাধীর আচরণ শুধু ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায়ই সীমাবদ্ধ নয়। হাজতখানায় কেক কেটে নিজের জন্মদিন উদযাপন, টিফিন ক্যারিয়ারে ভাত এনে সবাইকে নিয়ে খাওয়াÑ এমন তথ্য দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। গত ৩ সেপ্টেম্বর জিয়াউল আহসান সম্পর্কে এমন তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, জিয়াউল ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় কেক কাটেন-মর্মে অভিযোগ এসেছে। আরো অভিযোগ এসেছে টিফিন ক্যারিয়ারে ভাত এনে তিনি সবাইকে নিয়ে খান। এর আগে ওই দিন হাসিনার শাসনামলে শত শত ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। প্রিজন ভ্যান থেকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নেয়ার সময় জিয়াউলের গায়ে ভেস্ট দেখা যায়। ওই দিনই প্রথম তার হাতে হাতকড়া দেখা যায়। এর আগে তাকে হাজির করার সময় হ্যান্ডকাফ পরানো হতো না।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, এখন হাতকড়া পরানোর কারণ হচ্ছে প্রসিকিউশনের কাছে তথ্য এসেছে জিয়াউল আহসান যেকোনো একটা স্যাবোটাজের (নাশকতা) ঘটনা ঘটাতে পারেন। লকআপে (হাজতখানায়) থাকা অবস্থায় তিনি নিয়ম-শৃঙ্খলা মানেন না। জিয়াউল সেখানে কেক কাটেন। তিনি টিফিন ক্যারিয়ারে ভাত এনে সবাইকে নিয়ে খান। জিয়াউল আহসানের বোন অ্যাডভোকেট নাজনীন নাহারের বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ যখন আমাদের কাছে এসেছে, তখন ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে অবহিত করা হয়েছে। প্রসিকিউশন দফতরের পক্ষ থেকে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, শুধুই কি জিয়াউল আহসানের জন্য এই নিরাপত্তা? চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার অন্য আসামিরাও বিচারের প্রতি দেখাচ্ছেন চরম অবজ্ঞা। শত শত শিক্ষার্থী, শিশু ও সাধারণ মানুষ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত আসামি জুনায়েদ আহমেদ পলককে ট্রাইব্যুনালে ওঠানোর সময় একাধিকবার ‘ভি’ চিহ্ন দেখান। প্রিজন ভ্যান থেকে গান গাইতে গাইতে নামতে দেখা যায়। ভ্যানে উঠে আ’লীগ এবং হাসিনার পক্ষে স্লোগানও দেন। প্রিজন ভ্যান থেকে ওঠানো-নামানোর সময় কোনো আসামি হাত নেড়ে হাসিমুখে উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গি করেন। ‘আমরা আবার আসছি’ মর্মে হুমকিও দেন কোনো কোনো আসামি। আইনি লড়াইয়ের পরিবর্তে অনেক আসামি কাঠগড়া এবং আদালত প্রাঙ্গণকে রাজনৈতিক প্রচারণার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেন।

হাসিনা আমলে গুম-খুন-নির্যাতন তথা মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক ২টি মামলার আসামি বেশ কিছু সেনা কর্মকর্তা। হাসিনা আমলে তাদের ৩ জন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর (ডিজিএফআই)-এর পরিচালক ছিলেন। কেউ ছিলেন জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি)-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। দুই মামলায় ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেয়ার কাজে ব্যবহৃত হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ ভ্যান। এদের একজন বিজিবির সাবেক ডিজি, সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) রেদোয়ানুল করিম। গত ২০ আগস্ট তিনি লম্বা তারিখ দেয়ার আবদার জানান ট্রাইব্যুনালে। আইনজীবীর ফি দেয়ার মতো টাকা না থাকার বিষয়টি ‘হিউম্যান স্টোরি’ হিসেবে তুলে ধরে ভেতরে ভেতরে হাসিনা সমর্থক কয়েকটি মিডিয়া। ‘বেতনের টাকা আইনজীবীকে দেবো নাকি সংসার চালাব’ শীর্ষক শিরোনাম করে কয়েকটি সংবাদপত্র ও অনলাইন, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতি অবজ্ঞা ও শিষ্টাচার পরিপন্থি। কোনো আসামি প্রায়ই বাসা থেকে টিফিন ক্যারিয়ারে করে আনা খাবার হাজতখানায় বসে খান।

এর আগে, গত ৩০ জুন ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলার সময় হাসিনার ‘গোয়েবলস’খ্যাত তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তর্জনী উঁচিয়ে শাসন করেন পুলিশ সদস্যদের। পুলিশ যেন তার শরীর স্পর্শ না করে। সহানুভূতি সৃষ্টির লক্ষ্যে আসামি হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে তার স্ত্রীর সাক্ষাৎ করতে আসার দৃশ্য, ডা. দীপু মনির সঙ্গে অসুস্থ স্বামীর (বর্তমানে মৃত) সাক্ষাতের মতো তুচ্ছ বিষয়গুলো নিয়ে ফ্যাসিবাদ সমর্থক সংবাদ মাধ্যমগুলো ‘প্যাকেজ’ নিউজ তো আছেই। সাক্ষীদের বর্ণনায় উঠে আসা গুম-খুন এবং জুলাই গণহত্যার নির্মমতার বিশদ বিবরণ তুলে ধরার পরিবর্তে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ বক্তব্য প্রচার, ফুটেজ প্রদর্শন ফ্যাসিবাদ সমর্থক মিডিয়াগুলোর সূক্ষ্ম কৌশলও লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ, হাসিনার জুলাই নিষ্ঠুরতা প্রচারের পরিবর্তে ‘হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরা’কে প্রাসঙ্গিক করে রাখতে অনুগত সংবাদ মাধ্যমগুলোর কৌশল ক্ষোভ সঞ্চার করছে দেশবাসীর মনে। কারণ আওয়ামী শাসনামলে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায়ও অনেক আলেম-ওলামা, মাদ্রাসা ছাত্র, বিএনপি-জামায়াতসহ বহু রাজনীতিককে বিনা বিচারে ডা-াবেড়ি পরিয়ে আদালতে তুলতে দেখা গেছে। বিএনপি-ছাত্রদলের অনেক নেতাকে তখন হ্যান্ডকাফ ও ডা-াবেড়ি পরিয়ে মা-বাবার জানাজায় অংশ নিতে দেখা গেছে। পক্ষান্তরে জিয়াউল আহসান এবং খুনি হাসিনার সহযোগীদের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যাচ্ছে ঠিক উল্টো চিত্র। এমন উদারনৈতিক চিত্রও মানুষকে হতাশ করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

16 − 1 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য