Wednesday, September 9, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকএক বছরে ১ হাজার আরএসএস-পরিচালিত বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা শুভেন্দুর

এক বছরে ১ হাজার আরএসএস-পরিচালিত বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিন্দুত্ববাদী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় সেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) শিক্ষা বিষয়ক শাখা ‘বিদ্যা ভারতী’ পরিচালিত অন্তত এক হাজারটি বিদ্যালয় আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যে স্থাপন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কলকাতায় বিদ্যা ভারতীর ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় শুভেন্দু অধিকারী মুসলিম-বিদ্বেষী চরমপন্থী সংস্থাটিকে রাজ্যজুড়ে তাদের উপস্থিতি প্রসারিত করার এবং তার ভাষায় “জাতীয়তাবাদী শিক্ষা” তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজ্যের প্রতিটি জেলা, পৌরসভা এবং পঞ্চায়েত এলাকায় এই বিদ্যালয়গুলো স্থাপন করা উচিত।


শুভেন্দু অধিকারী বিশেষ করে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিদ্যা ভারতীর আরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়ে জোর দেন।এই জেলাগুলোতে “দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বেশি ঘটে” বলে দাবি করে তিনি সেখানে শিক্ষামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য সংস্থাকে অনুরোধ করেন।


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার “দূষিত করেছে” বলে অভিযোগ তুলে শুভেন্দু অধিকারী শিক্ষা ব্যবস্থার কথিত পুনর্গঠনে বিদ্যা ভারতীকে আরও বড় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।উল্লেখ্য, বিদ্যা ভারতী আরএসএস-এর একটি অনুমোদিত সংস্থা, যা সারা ভারত জুড়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধভিত্তিক নানা কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে।

পৃথক মাদ্রাসা শিক্ষার বিরোধিতা

রাজ্যে একটি মাত্র একীভূত শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়ে শুভেন্দু বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা থাকা উচিত নয়।শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমাদের ভাবনা হলো শিক্ষার কোনো ভিন্ন রূপ থাকা উচিত নয়; মাদ্রাসা শিক্ষা ও অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা আলাদা হতে পারে না। সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা একই ধারায় পরিচালিত হওয়া উচিত।”


ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির বিখ্যাত স্লোগান—”এক দেশ, এক সংবিধান, এক নিশানা, এক প্রধান”—স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, একই নীতি শিক্ষা ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।এছাড়া উচ্চশিক্ষা দপ্তর যেখানে অন্যান্য সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়াদি দেখভাল করে, সেখানে সংখ্যালঘু বিষয়কমন্ত্রী বা দপ্তর আলাদাভাবে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার বিদ্যমান ব্যবস্থারও বিরোধিতা করেন তিনি।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “উচ্চশিক্ষা দপ্তর বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেখবে আর অন্য একটি দপ্তর আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবে—এমন বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা আমরা চলতে দেব না।”

মুসলিম শিক্ষার্থীদের পৃথক তালিকা নিয়ে প্রশ্ন

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার পর সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তর থেকে তার কাছে আলাদাভাবে মুসলিম শিক্ষার্থীদের তালিকা পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।তিনি বলেন, “আমি পরীক্ষার মেধাবীদের সংবর্ধিত করেছিলাম। পরবর্তীতে সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তর থেকে আলাদা করে ২৭ জন মুসলিম শিক্ষার্থীর নাম সংবলিত একটি ফাইল আমার কাছে পাঠানো হয়।”তিনি এই পৃথক তালিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সংবর্ধিতদের তালিকায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা অন্তর্ভুক্ত ছিল, তাই আলাদা তালিকার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না।

‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে স্কুলগুলোকে সতর্কবার্তা

অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী বিদ্যালয়গুলোতে ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতের পূর্ণাঙ্গ রূপ পরিবেশন করা প্রসঙ্গেও কথা বলেন।তিনি জানান, যেসব স্কুল ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ অংশ গাইতে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের সরকারি অনুদান বা সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

চরম মুসলিম-বিদ্বেষী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি যে পূর্ণাঙ্গ রূপ না গাইলে সরকারি সাহায্য বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর তারা কিছুটা নমনীয় হলেও তা পুরোপুরি ছিল না। তারা দাঁড়িয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ঠোঁট নাড়ায়নি। তখন আমি তাদের বলি যে গান গাওয়ার সময় ঠোঁটও নাড়াতে হবে।”‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় প্রতীক ও আচার ব্যবহারের ভূমিকা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই তার এই মন্তব্য সামনে এলো।

বিদ্যা ভারতীর বিদ্যালয় সম্প্রসারণের এই প্রস্তাবিত পরিকল্পনা পশ্চিমবঙ্গে আরএসএস-সংযুক্ত এই সংগঠনের প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়ে রাজ্য সরকারের একটি বড় পদক্ষেপ। তবে বিরোধীদের মতে, শিক্ষায় আরএসএস-ঘনিষ্ঠ কোনো সংগঠনের আধিপত্য বৃদ্ধি পেলে তা সাধারণ বিদ্যালয়গুলোতে নির্দিষ্ট কোনো একপেশে ভাবাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য