ভারতের হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড রাজ্যের পাশাপাশি এবার হড়পা বানে বিপর্যস্ত পাঞ্জাব অঞ্চল। হিমালয়ের দুই রাজ্যের পাশাপাশি গত কয়েক দিন ধরেই উত্তর ভারতের এই রাজ্যে ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। তার জেরে রাজ্যের হোসিয়ারপুর, গুরুদাসপুর ও রূপনগর-সহ বেশ কিছু জেলায় হড়পা বান নেমে আসে। তার সঙ্গে পং এবং ভাকরা বাঁধ থেকে অতিরিক্ত পানি ছাড়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। তবে উদ্ধার এবং ত্রাণকাজ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান।
অন্যদিকে, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে গত কয়েক দিনের বৃষ্টি, ধস এবং বন্যা পরিস্থিতির জেরে ইতোমধ্যেই মৃত্যুর সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়েছে। শুধু হিমাচলেই বুধবার পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের। উত্তরাখণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। তবে এই দুই রাজ্যে বৃষ্টি এখনই থামবে না বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে তারা। হিমাচলের মুখ্যসচিব ওঙ্কারচাঁদ শর্মা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, “গত তিন দিনে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৩ জন নিখোঁজ আছে। রোববার রাত পর্যন্ত ৫৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।”
রোববার থেকে হিমাচলে বৃষ্টির তাণ্ডব বেড়েছে। শিমলা-সহ রাজ্যের বেশির ভাগ জেলায় মুহুর্মুহু ধস নেমেছে। রাজধানী শিমলায় তিনটি এলাকা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধসের কারণে। সেগুলো হলো, সামার হিল, ফাগলি এবং কৃষ্ণনগর। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তথ্য বলছে, গত ২৪ জুন থেকে বর্ষার এই মওসুমে হিমাচলে ২১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৮ জন নিখোঁজ আছে। ডেপুটি কমিশনার নিপুণ জিন্দল জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কাংড়া জেলার ইন্দোরা এবং ফতেহপুর থেকে ১,৭৩১ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, উনা, হামিরপুর বিলাসপুর, কাংড়া, মান্ডি, শিমলা, সোলান ও সিরমুরে আগামী দু’দিন ধরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে।
শিমলার আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তা সুরেন্দ্র পাল সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, এ বছর জুলাইয়ে হিমাচলে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা গত ৫০ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই মওসুমে গত ৫৪ দিনে ৭৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এ রাজ্যে। উত্তরাখণ্ডের নৈতিতাল, চম্পাবত, উধম সিংহ নগর, দেহরাদূন, টিহরী, পৌড়ী এবং আলমোড়া জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার দেহরাদূনের বিকাশনগর তহসিলের লাঙ্ঘা জাখান গ্রামে ১৫টি বাড়ি ধসে গেছে। তবে আগে থেকেই বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেওয়ায় বড় বিপদ এড়ানো গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া এ ধসের কারণে বন্ধ আছে পৌড়ী-কোটদ্বার-দুগাড্ডা জাতীয় সড়ক। পিপলকোটির কাছে হৃষীকেশ-বদ্রীনাথ জাতীয় সড়কের বিশাল অংশ হড়পা বানে ভেসে গেছে।
