Monday, June 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরফিলিস্তিন বিজয়ের স্মারক বড় ওমরি মসজিদ

ফিলিস্তিন বিজয়ের স্মারক বড় ওমরি মসজিদ

১৪০০ বছরেরও আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল গাজায় অবস্থিত বড় ওমরি মসজিদ। এটি আল-আকসা ও আহমেদ পাশা আল-জাজার মসজিদের পর ফিলিস্তিনের তৃতীয় বৃহত্তম ও প্রাচীন মসজিদ হিসেবে বিবেচিত। ওমর মুখতার স্ট্রিটের পূর্বে, ফিলিস্তিন স্কয়ারের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে, গাজার প্রাচীন শহরের কেন্দ্রস্থলে দারাজ কোয়ার্টারে এটি অবস্থিত। কেউ কেউ মসজিদে আকসার সঙ্গে সাদৃশ্য থাকার কারণে এটিকে ‘ছোট আল-আকসা মসজিদ’ বলে ডাকে।

খলিফা ওমর বিন আল-খাত্তাবের শাসনামলে ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দে ফিলিস্তিন বিজিত হয়। ফিলিস্তিন বিজয়কালে খলিফা ওমর ইবনে আল-খাত্তাবের সম্মানে মসজিদের নাম দেওয়া হয় ‘আল-ওমরি’। আর এটি গাজার অন্যতম বৃহত্তম মসজিদ হওয়ায় ‘বড় মসজিদ’ হিসেবে পরিচিত।

১৩৫৫ সালে মুসলিম ভূগোলবিদ ইবনে বতুতা মসজিদটিকে তৎকালীন সময়ের ‘এক উত্তম জামে মসজিদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ মসজিদ চার হাজার ১০০ বর্গমিটারের একটি এলাকায় (৪৪ হাজার বর্গফুট) অবস্থিত। এর প্রাঙ্গণের আয়তন এক হাজার ১৯০ বর্গমিটার। মসজিদের পাঁচটি দরজা রয়েছে। সাধারণত বেশির ভাগ কাঠামো স্থানীয়ভাবে পরিচিত সামুদ্রিক বেলেপাথর কুরকার থেকে নির্মিত হয়।

মসজিদের বৃহৎ আঙ্গিনা বৃত্তাকার খিলান দ্বারা বেষ্টিত।
মসজিদ ভবনটিতে প্রায় ৩৮টি স্তম্ভ আছে। এসব স্তম্ভে বিভিন্ন যুগের স্থাপত্যের সৌন্দর্য প্রতিফলিত হয়েছে। মামলুক ও পরবর্তী সময়ে অটোমানরা ভবনের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সম্প্রসারিত করেছে। এ মসজিদের প্রাঙ্গণে মামলুক ও উসমানীয় যুগে কোরআন ও ধর্মীয় জ্ঞানদানের জন্য ব্যবহৃত চারটি কক্ষ আছে।

বর্তমানে এর দুটি অবশিষ্ট আছে, যা মসজিদের সঙ্গে সংযুক্ত প্রশাসনিক অফিসে রূপান্তরিত হয়েছে।
ইবন বতুতার ভাষ্যমতে, এ মসজিদের একটি সাদা মার্বেলের মিম্বর ছিল, যা আজও বিদ্যমান। ১৬৬৩ সাল থেকে মসজিদে শিলালিপিসংবলিত একটি ছোট মিহরাব আছে, যেখানে অটোমান শাসনামলের গাজার শাসনকর্তা মুসা পাশার নাম অঙ্কিত আছে।

উসমানীয় শাসনামলে মসজিদটি সম্প্রসারিত হয়েছিল এবং বিভিন্ন স্থাপত্য সংযোজন করা হয়েছিল। এ মসজিদ মিনারের জন্য বিখ্যাত। যার নিম্ন অর্ধাংশ বর্গাকৃতির এবং ঊর্ধ্ব অর্ধাংশ অষ্টভুজাকৃতির মামলুক স্থাপত্যশৈলী দ্বারা নির্মিত। চার টায়ার্ডের ওপরের অর্ধেকসহ মিনারের ওপর-নিচ ও ঝুলন্ত বারান্দা পাথরে নির্মিত। চূড়া বেশির ভাগ তক্ষণ ও টাইলস নির্মিত এবং ঘন ঘন নবায়ন করা হয়। অষ্টভুজাকৃতির ড্রাম পাথর নির্মিত একটি অনাড়ম্বর গম্বুজ এবং হালকা নির্মাণ লেভান্টের বেশির ভাগ মসজিদের অনুরূপ। গির্জার পূর্বপাশে মিনারের মূল স্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে। তার তিনটি অর্ধবৃত্তাকার খিলান মিনারের ভিত্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

মসজিদের দরজার ওপর মামলুক সুলতান কালাওনের নামাঙ্কিত একটি শিলালিপি এবং সুলতান লাজিন ও বারকুকের নামসংবলিত শিলালিপি আছে। ১১৪৯ খ্রিস্টাব্দে ক্রুসেডের সময় মসজিদটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং গির্জায় পরিণত হয়। মামলুক যুগে এটি আবার মসজিদ হিসেবে নির্মিত হয়। সুলতান সালাউদ্দীন-আইয়ুবির সময়ে ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের বিজয়ের পর মসজিদটি পুনর্নির্মত হয়।

সূত্র : আলজাজিরা ও উইকিপিডিয়া

লেখক : শিক্ষক ও অনুবাদক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one − one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য