বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম দাবি করেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফ্রন্টলাইনার তাহরিমা জামান সুরভীকে ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই তথ্য জানিয়ে বলেন, বিষয়টি মূলত সুরভীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা ও অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার জেরেই ঘটেছে।

সুরভীর উপর চাপের অভিযোগ
মঈনুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, মামলার বাদি সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখিয়ে সুরভীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করতে চেয়েছিলেন। পরে কুপ্রস্তাব দেওয়ার পর সুরভী তা প্রত্যাখ্যান করলে বিষয়টি প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানান। এর জের ধরে সাংবাদিক নাঈমুর সংঘবদ্ধভাবে মিডিয়া ট্রায়াল চালিয়ে সুরভীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির ভুয়া সংবাদ তৈরি করেন, যা মামলাতেও উল্লেখ নেই। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তিনি আরও বলেন, সুরভী গণহত্যাকারী লীগের বিরুদ্ধে ভোকাল থাকার কারণে যাচাই-বাছাই ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঈনুল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁরা সুরভীর পাশে আছে এবং অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছেন। এছাড়া জুলাই বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে কোনো অন্যায় মানবে না বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
কালবেলার সাংবাদিক দুর্জয়ের কুপ্রস্তাব
আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি) বেলা ২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মঈনুল ইসলাম এমন তথ্য জানিয়েছেন। ব্ল্যাকমেইল, মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ২৪ ডিসেম্বর গাজীপুরের টঙ্গীতে নিজ বাসা থেকে তাকে তুলে নেয় পুলিশ। জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় এই মামলা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক কালবেলায় কর্মরত।
মঈনুল ইসলাম লিখেছেন, ‘জুলাই বিপ্লবের ফ্রন্টলাইনার সুরভীর মামলার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে যে তথ্যগুলো জানলাম, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মামলার বাদি সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একটি ছবি দেখিয়ে নিজেকে তাঁর ‘সন্তানতুল্য’ ও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দেন। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি তাহরিমা জামান সুরভীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।’
তিনি আরও জানান, ‘এক পর্যায়ে নাঈমুর রহমান দুর্জয় সুরভীকে কুপ্রস্তাব দেন এবং কক্সবাজার যাওয়ার অফার দেন। সুরভী তা ডিনাই করে এবং বিষয়টি ফেসবুকে প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানায়। এতে নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের ইগোতে আঘাত লাগে।’
হাদি ভাইয়ের কর্মসূচি ও মিডিয়া ট্রায়াল
মঈনুলের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘পরবর্তীতে গাজীপুরে হাদি ভাইয়ের (শরিফ ওসমান হাদি) হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে সুরভী ওই সাংবাদিককে দেখতে পেয়ে ভুয়া স্লোগান দেয়। এর জের ধরে ওই সাংবাদিক সংঘবদ্ধভাবে মিডিয়া ট্রায়াল চালিয়ে সুরভীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করান, যা মামলাতেও উল্লেখ নেই।’ এদিকে জুলাই রেভ্যুলোশন অ্যালায়েন্স তাদের মধ্যকার কথোপকথনের ১৪ সেকেন্ডের একটি কল রেকর্ড প্রকাশ করে, যাতে সাংবাদিক নাইমুর রহমান দুর্জয়ের অশ্লীল কথোপকথন শোনা যায়।
মঈনুল আরও লিখেছেন, ‘যেহেতু সুরভী গণহত্যাকারী লীগের বিরুদ্ধে ভোকাল ছিল, তাই কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই আওয়ামি প্রশাসন তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আমরা স্পষ্টভাবে সুরভীর পাশে আছি। অবিলম্বে সুরভীর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। জুলাই বিপ্লবীদের গায়ে কোনো ফুলের টোকাও আমরা মেনে নেব না।’
খবরসূত্রঃ দৈনিক জনকণ্ঠ, জুলাই রেভ্যুলোশন অ্যালায়েন্স, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস।
