Tuesday, September 15, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরসাভারের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি ও সমকামী প্রতিরোধী আইন কার্যকরের দাবি ৬০০ বিশিষ্ট...

সাভারের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি ও সমকামী প্রতিরোধী আইন কার্যকরের দাবি ৬০০ বিশিষ্ট আলেমের

সাভারের সাম্প্রতিক ছেলে শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি এবং দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন দেশের ৬০০ জন বিশিষ্ট আলেম।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মূল্যবোধ আন্দোলনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেনের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা দেশের সচেতন উলামায়ে কেরাম সাভারের একটি মাদরাসায় সাত বছরের একজন শিক্ষার্থীর ওপর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত যৌন নিপীড়নের খবরে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধ কেবল নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয় নির্দেশ করে না, বরং শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইসলামে সব ধরনের অনৈতিক যৌন সম্পর্ক, প্রকৃতিবিরুদ্ধ আচরণ ও যৌন নিপীড়ন, বিশেষভাবে সমকামিতাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও গুরুতর অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কোমলমতি শিশুদের ওপর সমকামীয় সহিংসতায় লিপ্ত ছাত্র ও শিক্ষকের ইসলামি আদর্শ ও মাদরাসার পবিত্র পরিবেশের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না।’

এতে বলা হয়, ‘বিভিন্ন গবেষণামূলক বিশ্লেষণে জানা যায়, সমকামী ও উভকামীদের মাধ্যমে শিশুদের যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। সমাজে এই সমকামী প্রবণতা প্রতিরোধ না করা গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বত্র শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বিগত কয়েক বছরে পশ্চিমা ফান্ডে বিভিন্ন এনজিও কর্তৃক সমকামী আচরণকে স্বাভাবিকীকরণের কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এনজিও সহযোগিতায় ও বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে সমকামী নেটওয়ার্ক বিস্তৃতি লাভ করলেও সমকামিতা প্রতিরোধমূলক দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে সমকামিতার ব্যাধি ধীরে ধীরে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে, এমনকি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও তা ছড়িয়ে পড়েছে।’

‘মাদরাসা সমাজের বাইরে ভিন্ন গ্রহের কোনো ভূখণ্ড নয়। সমাজে যখন কোনো অবক্ষয়ের বন্যা বইতে থাকে, মাদরাসাও তার প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা চাই, মানুষের আস্থার জায়গা মাদরাসাগুলোতে একটিও অনাচার না ঘটুক। আমরা বিশ্বাস করি, কুরআন-সুন্নাহর আইনের সঠিক প্রয়োগেই এই সমস্যার সমাধান নিহিত রয়েছে। কিন্তু যতদিন পর্যন্ত কুরআন-সুন্নাহর আইন প্রতিষ্ঠিত না হচ্ছে, বিদ্যমান আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে হলেও এই সামাজিক অবক্ষয়কে প্রতিরোধ করতে হবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডে ১৫৩৩ সালে রাজা অষ্টম হেনরির আমলে সমকামী আচরণ ও পশুকামিতার বিরুদ্ধে Buggery Act 1533 পাস করা হয়েছিল। সেই আইনের ধারণার ভিত্তিতে ব্রিটিশরা পরবর্তীতে তাদের উপনিবেশগুলোতে এ ধরনের আইনের সংস্করণ তৈরি করে এবং বিভিন্ন ঔপনিবেশিক অঞ্চলে প্রকৃতিবিরুদ্ধ অপরাধসংক্রান্ত আইন জারি করে।’

এতে বলা হয়, ‘সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারাতেও প্রকৃতিবিরুদ্ধ যৌন সংসর্গের বিচার ও শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু এই ধারার কার্যকর প্রয়োগ না হওয়ায় অনৈতিকতার বিস্তার ঘটে চলেছে।’

এ ছাড়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ৯১ শতাংশের বেশি মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশ, আর ইসলামের দৃষ্টিতে সমকামিতা একটি নিকৃষ্টতম পাপাচার। আমরা চাই, সমকামিতার মতো পাপাচার বা সহিংসতা স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, ভার্সিটি, মেস, যেখানেই ঘটুক, অপরাধীদের ৩৭৭ ধারার আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এবং সমকামিতার প্রচার-প্রসারের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি এনজিওর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

বিবৃতিতে তদন্ত সাপেক্ষে সাভারের ন্যক্কারজনক ছেলে শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সবার শাস্তির দাবিও জানানো হয়।

এ বিষয়ে বলা হয়, ‘সাভারের নজিরবিহীন ও ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অপরাধীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ৩৭৭ ধারা ও প্রযোজ্য অন্যান্য আইনের আওতায় এনে যথাযথ ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যেন ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের জঘন্য কাজ করার দুঃসাহস দেখাতে না পারে।’

বিবৃতি প্রদানকারী ৬০০ বিশিষ্ট আলেমের নামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা মূল্যবোধ আন্দোলনের ওয়েবসাইট ‘মূল্যবোধ ডট কম’-এ প্রকাশ করা হয়েছে।

তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও শীর্ষস্থানীয় উলামারা হলেন, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতী মুহাম্মাদ আবদুল মালেক, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর মোখতার আহমাদ, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাসজিদুত তাকওয়া ধানমন্ডির খতিব মুফতী সাইফুল ইসলাম, সাইন্সল্যাব বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হাসান জামিল, মাসজিদুল জুমা কমপ্লেক্স পল্লবীর খতিব আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ, লেখক ও গবেষক শায়খুল হাদিস মাওলানা আবুল বাশার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতী মাসউদুল করীম, বাইতুশ শাকুর জামে মসজিদ মিরপুরের খতিব ড. হাফেজ এবিএম হিজবুল্লাহ, মারকাযু দিরাসাতিল ইকতিসাদিল ইসলামীর মুহতামিম ড. মুফতী ইউসুফ সুলতান, মহানগর প্রজেক্ট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা তাহমীদুল মাওলা, ফজর ইনস্টিটিউট ঢাকার মুহতামিম রুহুল আমীন সাদী, জামেয়া মাহমুদিয়া যাত্রাবাড়ীর শিক্ষক মুফতী রেজাউল কারীম আবরার, রূপায়ণ সিটি জামে মসজিদের খতিব মুফতী মুহাম্মাদ শামছুদ্দোহা আশরাফী, মাদরাসাতু বানাতিল ইসলাম ঢাকার খতিব আবদুল্লাহ আল ফারুক, দ্বীনিয়াত বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুফতী সালমান আহমদ, মাদরাসাতুল কুরআন লিলবানাত মুহাম্মদপুরের মুহতামিম মুফতী সাঈদ আহমাদ, সুনিবিড় হাউজিং সোসাইটি জামে মসজিদ মুহাম্মাদপুরের খতিব মুফতী আরিফ জাব্বার কাসেমী, তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকার মুহতামিম মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, সরকারি তিতুমীর কলেজ জামে মসজিদের খতিব মুফতী ইরফান জিয়া, মসজিদ-ই বাক্কাতিল মোবারকাহ কলাবাগানের খতিব মুফতী আবু মুহাম্মাদ রাহমানী প্রমুখ।

Sourceinsaf24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen + 9 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য