৪৯৫৯-[১৩] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক মুসলিম অপর মুসলিমের (দীনী) ভাই। মুসলিম ব্যক্তি অপর মুসলিমের ওপর অবিচার করবে না, তাকে অপদস্থ করবে না এবং অবজ্ঞা করবে না। আল্লাহভীতি এখানে! এ কথা বলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের বক্ষের দিকে তিনবার ইঙ্গিত করে বললেনঃ একজন মানুষের জন্য এতটুকু অন্যায়ই যথেষ্ট যে, সে নিজের মুসলিম ভাইকে হেয় জ্ঞান করবে। মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের রক্ত, ধন-সম্পদ ও মান-সম্মান হারাম। (মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : মুসলিম ৩২-(২৫৬৪), সহীহ আত্ তারগীব ২৯৫৮, আহমাদ ৭৭২৭, শু‘আবুল ঈমান ৬৬৬০, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১১৮৩০।
ব্যাখ্যাঃ হাদীসটি মুসলিমদের পরস্পর পরস্পরের প্রতি আচরণ কেমন হবে তার বিবরণ পেশ করেছে। হাদীসের শব্দ (لَا يَخْذُلُهٗ) এর অর্থ তাকে বর্জন করবে না, তুচ্ছ মনে করবে না, লাঞ্ছিত করবে না, অবজ্ঞা করবে না। আরো একটু বিস্তারিত বললে হবে ‘‘কোন মুসলিম কোন যালিমের জুলুম থেকে বাঁচার জন্য অপর কোন মুসলিমের নিকট সহযোগিতার আবেদন জানালে তাকে ঐ অবস্থায় ফেলে রাখবে না বরং যথাসাধ্য তাকে জুলুমের হাত থেকে বাঁচানো এবং তার সহযোগিতায় হাত প্রসারিত করা দায়িত্ব।’’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বুকের দিকে ইশারা করে বললেন, তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে।
অন্য হাদীসে এসেছে, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের শরীরের দিকে দেখেন না, দেখেন তোমাদের অন্তরের দিকে। প্রথমটির অর্থ হলো বাহ্যিক ‘আমল দ্বারা তাকওয়া অর্জন হয় না। যতক্ষণ পর্যন্ত অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি না হয়। এ হাদীসটির মৌলিক অর্থ হলো অন্তরের অবস্থায় আল্লাহর নিকট বেশী গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কেউ এ হাদীস দ্বারা দলীল দিয়ে বলেছেন, ‘আক্ল জ্ঞান কলবে থাকে মাথায় নয়। (শারহে মুসলিম ১৬শ খন্ড, হাঃ ২৫৬৪)
