গত ২ই জানুয়ারি ২০২৫ শুক্রবার ঢাকার নদ্দার মোড়ল বাজারে মারকাযুত তালীম আল-ইসলামী মাদ্রাসাতে সকাল ৬টায় চুরি করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পরে এক অজ্ঞাত নারী। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় সেই ভোর সকালে মাদ্রাসার চারতলায় রুমে ঢুকে এক শিক্ষকের পাঞ্জাবী হাতাচ্ছেন সে নারী। সে সময় মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী ওই নারীকে চুরি করতে দেখে ফেলে।
মাদ্রাসার লোকজন সেই চোরকে বৈদ্যুতিক খুটির সাথে বেধে ফেলে। “সাধারণত বাংলাদেশে চোর ধরা পরলে মারধর করে সাধারণ মানুষজন, এক্ষেত্রে মাদ্রাসা ছাত্ররা মজা করে তার গায়ে পানি ফেলে” – এমনটাই বলেছেন এলাকাবাসী। পানি ঢেলে সে চোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেটার ভিডিয়ো ভাইরাল হলে পুলিশ ২জন মাদ্রাসাশিক্ষক ও ৩জন নাবালক মাদ্রাসা ছাত্রকে আটক করে। আদালত তাদেরকে ৭দিনের সশ্রম কারাদন্ড দেয়।
গুলশান থানার ওসি রাকিবুল হাসান জানান, ঐ মহিলা ভোর ৬টার সময় ঐখানে চুরি করার জন্য যায়। ঐখানে চুরি করতে গেলে হাতেনাতে ধৃত হয়।… এত সকালে পুলিশ কোথায় পাবেন সে চিন্তা করে তারা নিজেরাই ‘পানিশমেন্ট’ হিসাবে ঠান্ডা পানি ঢালায় তাদের ৫ জনকে গ্রেফতার করলে ঢাকার এক আদালত তাদেরকে ৭ দিনের সশ্রম কারাদন্ড দেয়, তাদেরকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্টার নিউজ সেই মাদ্রাসাতে যোগাযোগ করলে তারাও জানান যে এভাবে পানি দেওয়ার বিষয়টি ঠিক হয় নি।
চোরকে না ধরে তাদের এভাবে যাদের ঘরে চুরি করতে ঢুকেছে তাদের ধরার ব্যাপারে সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা। পাশাপাশি প্রশ্ন করছেন, চোর যদি পুরুষ হয়, তাহলে কথিত মানবাধিকার কর্মী-পুলিশের আচরণ এমন হতো কিনা।
সম্পাদকীয়ঃ
তবে এ বিষয়টি কিছু মিডিয়া উদ্দেশ্যমূলকভাবে “নারী নির্যাতন” বলে পোর্ট্রে করছে, যা অপসাংবাদিকতার শামিল। ফেইসবুকে একটি গ্রুপ আবার এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিয়ে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে।
দৈনিক প্রথম আলো “রাজধানীতে শীতের সকালে নারীকে খুঁটিতে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতন” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করে যাতে কৌশলে সে নারীর চুরির অভিযোগকে যথাসম্ভব হালকা করে দেখানো যায়, এবং এটাকে “নারী নির্যাতন” হিসাবে পোর্ট্রে করানো যায়। তাদের প্রথম প্যারা থেকে বোঝার উপায় নেই যে ঘটনাটি অন্যরকমঃ
“শীতের পোশাক পরা এক নারী খুঁটির সঙ্গে বাঁধা। তাঁর গায়ে ছোট বালতি ও মগ দিয়ে পানি ঢালছেন দুজন। নারীর অভিব্যক্তি দেখে বোঝা যাচ্ছে, ঠান্ডা পানির ঝটকা তিনি সামলাতে পারছেন না। তাঁর কষ্ট হচ্ছে। যাঁরা পানি ঢালছেন, তাঁদের মুখে হাসি। কয়েকজন জটলা করে দেখছেন। একজন মুঠোফোনে ভিডিও করছেন। গতকাল শনিবার ফেসবুকে এক নারীর প্রতি এমন সহিংসতার এক ভিডিও ভাইরাল হয়।” – প্রথম আলোর ন্যারেটিভ
সে নারী কীভাবে চারতলায় উঠলো স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও তারা এটাকে “সেই প্রশ্নেরও উত্তর মিলছে না” বলে লেখে তারা, ওসি রাকিবুল হাসানের অর্ধ বক্তব্য পোস্ট করে, এবং তাদের সমর্থনে ফেইসবুক পোস্ট থেকে সুবিধামতো একজন ব্যক্তির কমেন্ট নিয়ে নিউজে উল্লেখ করে।
সূত্রঃ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও স্টার নিউজের প্রতিবেদন
